১১/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৬৬ - আল্লাহর কালিমা উঁচু করার নিয়ত
জিহাদে একনিষ্ঠতা আবশ্যক
আল্লাহর পথে জিহাদ: উদ্দেশ্য ও নিয়তের মানদণ্ড
বুলুগুল মারাম : ১২৬৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৬৬
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا, فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কলিমা সুউচ্চ রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সেই আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল’। [১৩৭১]
[১৩৭১] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, এক ব্যক্তি গনীমতের জন্য, এক ব্যক্তি প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য এবং এক ব্যক্তি বীরত্ব দেখানোর জন্য জিহাদে শরীক হলো। তাদের মধ্যে কে আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কলিমা বুলন্দ রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সে-ই আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল।’ বুখারী ১২৩, ৩১২৬, ৭৪৫৮, মুসলিম ১৯০৪, তিরমিযী ১৬৪৬, নাসায়ী ৩১৩৬, আবূ দাঊদ ২৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৩, আহমাদ ১৮৯৯৯, ১৯৩৪৯, ১৯০৯৯।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিহাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সুউচ্চ রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, সেই আল্লাহর পথে জিহাদ করে। এখানে মূল বিষয় হলো নিয়ত ও উদ্দেশ্য। শুধু যুদ্ধের বাহ্যিক কাজ নয়, কেন করা হচ্ছে—এটাই গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি দেখায়, আল্লাহর পথে কাজ বলতে ব্যক্তিগত নাম, দুনিয়ার লাভ বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য নয়; বরং আল্লাহর কালিমাকে উঁচু রাখার উদ্দেশ্য হতে হবে। তাই “আল্লাহর পথে জিহাদ” বুঝতে হলে নিয়তের বিশুদ্ধতা বুঝতে হবে। এই শিক্ষা সব বড় আমলের ক্ষেত্রেও ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে জিহাদের মূল মানদণ্ড হলো সঠিক উদ্দেশ্য।
- আল্লাহর কালিমা উঁচু রাখার নিয়তকে হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি অন্তরের উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- দ্বীনি কাজে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আগে।
