১১/০. অধ্যায়ঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَ ضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ, وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِهِ, مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ না করে বা জিহাদের কামনা পোষণ না করে মারা যায় সে মুনাফিকি বা কপটতার অংশ বিশেষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মারা যাবে। [১৩৬৪]
[১৩৬৪] মুসলিম ১৯১০, নাসায়ী ৩০৯৭, আবূ দাঊদ ২৫০২।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - قَالَ: «جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ, وَأَنْفُسِكُمْ, وَأَلْسِنَتِكُمْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের মাল, জান ও কথার দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে থাকবে। [১৩৬৫]
[১৩৬৫] নাসায়ী ৩১৯২, আবূ দাঊদ ২৫০৪, আহমাদ ১১৮০৭, ১২১৪৫, দারেমী ২৪৩১।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ قَالَ: «نَعَمْ. جِهَادٌ لَا قِتَالَ فِيهِ, الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه. وَأَصْلُهُ فِي الْبُخَارِيِّ
আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! মেয়েদের উপর কি জিহাদের দায়িত্ব রয়েছে? তিনি উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ আছে, তবে তাতে যুদ্ধ নেই। তাদের জিহাদ হচ্ছে- হজ ও উমরাহ পর্ব সম্পাদন করা। এর মূল রয়েছে বুখারীতে। [১৩৬৬]
[১৩৬৬] উক্ত হাদীসটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জিহাদ করার অনুমতি চাইলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- তোমাদের জিহাদ হচ্ছে হজ। অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে, নবী (ﷺ) কে তাঁর স্ত্রীগণ জিহাদ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন- তখন তিনি বললেনঃ হজই হচ্ছে জিহাদ। বুখারী ১৫২০, ১৮৬১, ২৭৮৪, ২৮৭৫, ২৮৭৬, নাসায়ী ২৬২৮, ইবনু মাজাহ ২৯০১।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ - ﷺ - يَسْتَأْذِنُهُ فِي الْجِهَادِ. فَقَالَ: «[أَ] حَيٌّ وَالِدَاكَ?»، قَالَ: نَعَمْ: قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে জিহাদে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বললেন, তোমার পিতা-মাতা জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেন, ‘তবে তাদের খেদমতের চেষ্টা কর।’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। [১৩৬৭]
[১৩৬৭] বুখারী ৫৯৭২, ৩০০৪, মুসলিম ১৯৬০, ২৫৪৯, তিরমিযী ১৬৭, নাসায়ী ৩১০৩, আবূ দাঊদ ২৫২৯, ইবনু মাজাহ ২৭৮২, আহমাদ ৬৪৮৯, ৬৫০৮, ৬৭২৬।
وَلِأَحْمَدَ, وَأَبِي دَاوُدَ: مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ نَحْوُهُ, وَزَادَ: «ارْجِعْ فَاسْتَأْذِنْهُمَا, فَإِنْ أَذِنَا لَكَ; وَإِلَّا فَبِرَّهُمَا
হাদীসে আহমাদ ও আবূ দাঊদেও অনুরূপ বর্ণনা আছে- তাতে আরো আছে, তুমি বাড়ি ফিরে যাও ও পিতা-মাতার কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাও, তারা যদি অনুমতি দেন ভাল, অন্যথায় তাদের কল্যাণে নিয়োজিত থাক। [১৩৬৮]
[১৩৬৮] হাদীসের প্রথমাংশটুকু হচ্ছে (আরবী)। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে হিজরত করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমার কি ইয়ামানে কেউ আছে? লোকটি বললেন, আমার মাতাপিতা আছেন। রাসূল বললেন, তারা কি তোমাকে অনুমতি দিয়েছেন? তিনি (লোকটি) বললেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করলেন। আবূ দাঊদ ২৫৩০, আহমাদ ২৭৩২০।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ جَرِيرٍ الْبَجَلِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «أَنَا بَرِئٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ». رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ وَإِسْنَادُهُ [صَحِيحٌ], وَرَجَّحَ الْبُخَارِيُّ إِرْسَالَهُ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে (তাদের হয়ে) অবস্থান করে। [১৩৬৯]
[১৩৬৯] আবূ দাঊদ ২৬৪৫, তিরমিযী ১৬০৪।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ, وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরাতের প্রয়োজন নেই। এখন কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত (জিহাদের জন্য মানসিক প্রস্তুতি) রয়েছে। [১৩৭০]
[১৩৭০] বুখারী এবং মুসলিমে আরো রয়েছে, (আরবী) যখনই তোমাদের বের হবার আহ্বান জানানো হবে, তখনই তোমরা বেরিয়ে পড়বে। বুখারী ১৩৪৯, ১৫৮৭, ১৮৩৩, ১৮৩৪, ২০৯০, ২৭৮৩, মুসলিম ১৩৫৩, তিরমিযী ১৫৯০, নাসায়ী ২৮৭৫, ২৮৯২, আবূ দাঊদ ২০১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৭৩, আহমাদ ১৯৯২, ২২৭৯, দারেমী ২৪১২।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا, فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কলিমা সুউচ্চ রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সেই আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল’। [১৩৭১]
[১৩৭১] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, এক ব্যক্তি গনীমতের জন্য, এক ব্যক্তি প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য এবং এক ব্যক্তি বীরত্ব দেখানোর জন্য জিহাদে শরীক হলো। তাদের মধ্যে কে আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কলিমা বুলন্দ রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সে-ই আল্লাহ্র পথে জিহাদ করল।’ বুখারী ১২৩, ৩১২৬, ৭৪৫৮, মুসলিম ১৯০৪, তিরমিযী ১৬৪৬, নাসায়ী ৩১৩৬, আবূ দাঊদ ২৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৩, আহমাদ ১৮৯৯৯, ১৯৩৪৯, ১৯০৯৯।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّعْدِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ مَا قُوتِلَ الْعَدُوُّ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হিজরাত বন্ধ হবে না যতক্ষণ শত্রুর সাথে সংগ্রাম চলতে থাকবে। [১৩৭২]
[১৩৭২] আব্দুল্লাহ বিন সা’দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে গেলাম। আমাদের প্রত্যেকেই কোন প্রয়োজন চাচ্ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সর্বশেষে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তোমার কি প্রয়োজন? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), নিশ্চয়ই আমি আমার পরিবারকে ছেড়ে চলে এসেছি। আর তারা বলে যে হিজরাত নাকি শেষ হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন। নাসায়ী ৪১৭২, ৪১৭৩, আহমাদ ২১৮১৯।
১১/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: - أَغَارُ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - عَلَى بَنِيَّ الْمُصْطَلِقِ, وَهُمْ غَارُّونَ, فَقَتَلَ مُقَاتِلَتَهُمْ, وَسَبَى ذَرَارِيَّهُمْ. حَدَّثَنِي بِذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনী মুস্তালিক গোত্রের উপর হঠাৎ করে আক্রমণ করেছিলেন তখন ঐ গোত্রের লোকেরা উদাসীন ছিল। তাদের যুদ্ধরতদের হত্যা করলেন ও তাদের সন্তানদেরকে বন্দী করলেন। নাফি’ (রহঃ) বলেছেন এ সংবাদ আমাকে বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন। [১৩৭৩]
[১৩৭৩] (আরবী) শব্দের অর্থ (আরবী) অর্থাৎ উদাসীন। বুখারী ২৫৪১, মুসলিম ১৭৩০, আবু দাউদ ২৬৩৩, আহমাদ ৪৮৪২, ৪৮৫৮, ৫০৩০।