১৬/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৮১ - রাগ নিয়ন্ত্রণই প্রকৃত বীরত্ব
মন্দ চরিত্র সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
রাগ নিয়ন্ত্রণ: প্রকৃত বীরত্বের সহজ শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৪৮১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪৮১
وَعَنْهُ (أي: عن أبي هريرة -رضي الله عنه) قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ, إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই আসল বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [১৫৯১]
[১৫৯১] বুখারী ৬১১৪, মুসলিম ২৬০৯, আহমাদ ৭১৭৮, ৭৬৮৪, ১০৩২৪, মালেক।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বীরত্বের আসল মানে বুঝিয়েছেন। মানুষ সাধারণত শক্তিশালী বলতে তাকে বোঝে, যে অন্যকে কুস্তিতে হারাতে পারে। কিন্তু হাদিসটি বলছে, বাহুর জোরই আসল শক্তি নয়। রাগের সময় নিজের কথা, কাজ ও আচরণকে সামলে রাখা বড় শক্তির পরিচয়। কারণ রাগ উঠলে মানুষ সহজেই সীমা ছাড়িয়ে যায়, কষ্টদায়ক কথা বলে, অন্যায় করে বা সম্পর্ক নষ্ট করে। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণের হাদিস আমাদের শেখায়, নিজেকে দমন করা দুর্বলতা নয়; বরং তা প্রকৃত বীরত্ব। এতে মানুষের সম্মান রক্ষা হয়, অন্যের অধিকারও বেঁচে যায়। রাগ সামলানো মুসলিম চরিত্রের বড় সৌন্দর্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আসল শক্তি শুধু শরীরের জোরে নয়; নিজের নফসকে সামলানোর মধ্যেও প্রকাশ পায়।
- রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রশংসনীয় চরিত্র।
- কথা বা কাজে তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরা মুসলিমের জন্য ভালো পথ।
