১৬/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৮৩ - যুলুম ও কৃপণতা থেকে বাঁচার শিক্ষা
মন্দ চরিত্র সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
যুলুম ও কৃপণতা: ধ্বংসের পথ থেকে সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ১৪৮৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪৮৩
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «اتَّقُوا الظُّلْمَ, فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, وَاتَّقُوا الشُّحَّ, فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যুলুম করা হতে নিজেকে বাঁচাও, কেননা, কিয়ামতের কঠিন দিনে যুলুম কঠিন অন্ধকাররূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর কৃপণতা হতেও নিজেকে বাঁচাও, কারণ ওটা আগের জাতিগুলোকে ধ্বংস করেছে। [১৫৯৩]
[১৫৯৩] মুসলিম ২৫৭৮, আহমাদ ১৪০৫২।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইটি মন্দ স্বভাব থেকে বাঁচতে বলা হয়েছে—যুলুম ও কৃপণতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে যুলুম থেকে সাবধান করেছেন, কারণ যুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে প্রকাশ পাবে। এরপর কৃপণতা থেকে বাঁচতে বলেছেন, কারণ সেটি আগের জাতিগুলোকে ধ্বংস করেছে। এখানে কৃপণতা বলতে শুধু টাকা না দেওয়া নয়; বরং নিজের মধ্যে এমন সংকীর্ণতা রাখা, যা মানুষকে অন্যের অধিকার নষ্ট করতে বা ভালো কাজে পিছিয়ে যেতে ঠেলে দেয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, অন্যায় ও স্বার্থপরতা মানুষকে ক্ষতির দিকে নেয়। তাই যুলুম থেকে বাঁচা এবং কৃপণতা ছাড়ার চেষ্টা করা মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের সঙ্গে লেনদেন, কথা ও ব্যবহারে এই সতর্কতা খেয়াল করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুলুম থেকে বেঁচে থাকা আখিরাতের চিন্তার অংশ।
- কৃপণতা মানুষ ও সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- অন্যের অধিকার ও প্রয়োজনের ব্যাপারে সংকীর্ণ মন রাখা ভালো নয়।
- নিজেকে ন্যায়পরায়ণ ও উদার বানানোর চেষ্টা করা উচিত।
