১৬/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৯৩ - আল্লাহর সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয়ের পরিণতি
মন্দ চরিত্র সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
সম্পদে খিয়ানত নয়: অন্যায় ব্যয়ের কঠিন সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ১৪৯৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪৯৩
وَعَنْ خَوْلَةَ الْأَنْصَارِيَّةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِنَّ رِجَالًا يتخَوَّضُون فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٍّ, فَلَهُمْ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
খাওলাহ্ আনসারীয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কিছু লোক আল্লাহ্র দেয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।’ [১৬০৩]
[১৬০৩] বুখারী ৩১১৮, তিরমিযী ২৩৭৪, আমমাদ ২৬৫১৪, ২৬৫৮৩। (আরবী) এর অর্থঃ অন্যায়ভাবে মুসলমানদের সম্পদ হস্তক্ষেপ করে। উক্ত হাদীসে পৃষ্ঠপোষকদের অন্যায়ভাবে কোন সম্পদ গ্রহণ করা এবং এর হকদারদের মানা করা থেকে নিবারণ করা হচ্ছে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর দেওয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করার বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিছু লোক আল্লাহর সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত। এখানে সম্পদকে আমানত হিসেবে ভাবার শিক্ষা আছে। মানুষ যে সম্পদ পায়, তা নিজের ইচ্ছামতো অন্যায় পথে ব্যবহার করার জিনিস নয়। বিশেষ করে কোনো দায়িত্ব, তহবিল, জনসম্পদ বা কারও অধিকারভুক্ত সম্পদ হলে সাবধানতা আরও দরকার। সম্পদে খিয়ানত মানুষকে দুনিয়ায় সাময়িক লাভ দিতে পারে, কিন্তু আখিরাতের হিসাব কঠিন হতে পারে। হাদিসটি ব্যয়, দায়িত্ব ও আমানতদারীর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে শেখায়। ন্যায্য পথে সম্পদ ব্যবহার করা নিরাপদ ও সুন্দর চরিত্রের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে দেখা উচিত।
- অন্যায়ভাবে সম্পদ ব্যয় করা কঠিন পরিণতির কারণ হতে পারে।
- জনসম্পদ বা দায়িত্বের সম্পদ ব্যবহারে বেশি সতর্কতা দরকার।
- ন্যায্য ব্যয় আমানতদারীর অংশ।
