১৬/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৫১৪ - বেশি লা’নাত করার ক্ষতি
মন্দ চরিত্র সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
অভিশাপ দেওয়া সম্পর্কে হাদিস: জিহ্বাকে লা’নাত থেকে বাঁচানো
বুলুগুল মারাম : ১৫১৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৫১৪
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِنَّ اللَّعَّانِينَ لَا يَكُونُونَ شُفَعَاءَ, وَلَا شُهَدَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অধিক লা’নাতকারীগণ (তিরস্কার ও অভিসম্পাতকারী) পরকালে সুপারিশকারী ও সাক্ষ্য প্রদানকারী হতে পারবে না। (এরূপ দু’টো বিশেষ মর্যাদা লাভ হতে এরা বঞ্চিত হবে। [১৬২৩]
[১৬২৩] মুসলিম ২৫৯৮, আবূ দাউদ ৪৯০৭, আহমাদ ২৬৯৮১।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অধিক লা’নাতকারী বা অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী ও সাক্ষ্য প্রদানকারী হতে পারবে না। অর্থাৎ অভিশাপকে মুখের সাধারণ অভ্যাস বানানো মুমিনের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। অনেক সময় মানুষ রাগে, বিরক্তিতে বা মজা করেও কঠিন শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু হাদিসটি শেখায়, জিহ্বার ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলিমের ভাষা হওয়া উচিত দোয়া, নসিহত ও নরম কথার ভাষা; অভিশাপ, তিরস্কার ও কঠোরতার ভাষা নয়। বেশি লা’নাত মানুষের অন্তরকে কঠিন করে এবং ভালো চরিত্র থেকে দূরে নিয়ে যায়। তাই কথা বলার আগে নিজের শব্দ বেছে নেওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভিশাপ দেওয়া অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়।
- জিহ্বার ব্যবহার কিয়ামতের জবাবদিহির বিষয়।
- মুমিনের ভাষা হওয়া উচিত নরম, দোয়াময় ও সংযত।
