১/১. অধ্যায়ঃ

বুলুগুল মারাম হাদিস ২ - পানি পবিত্র ও নাপাক না হওয়ার মূলনীতি

পানি - পানির মূল পবিত্র অবস্থায় বহাল থাকা

পানি পবিত্র: নাপাকির বিষয়ে ইসলামের সহজ শিক্ষা

বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ. أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ وَصَحَّحَهُ أَحْمَدُ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘নিশ্চয়ই পানি পবিত্র জিনিস, কোন কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না।’-৩ জনে; [২] আহমাদ একে সহীহ্‌ বলেছেন। [৩]

[২] আবূ দাঊদ ৬৬, নাসায়ী ১৭৪, তিরমযী ৬৬। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলা হলো, আমরা কি বুযা’আহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? আর ঐ কূপটি এমন ছিল যে, তাতে হায়েযের নেকড়া, কুকুরের গোশ্‌ত এবং অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। অতঃপর রাসূল এ হাদীস বর্ণনা করেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ, যদিও একজন রাবী অস্পষ্টতার কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে। কিন্তু এর অন্য একটি সনদ ও কয়েকটি শাহেদ রয়েছে যা হাদীসটি বিশুদ্ধ হাদীসের পরিণত করছে। বিঃ দ্রঃ হাদীসের কথা – “ (আরবী)” বিষয়ে ইমাম খাত্তাবী তাঁর মা’আলিমুস সুনান (১/৩৭) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীস শ্রবণ করে অনেকের মনে এ ধারণা জন্মাতে পারে যে, তারা এ কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করতো। তাদের সম্পর্কে এমন মন্দ ধারণা জায়েজ নয়; বিশেষ করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে আরো নয়। তাছাড়া এমন (নোংরা) স্বভাব পূর্বেকার বা বর্তমানকালের কোন মানুষের সে মুসলিম হক বা কাফির হোক এমন (নোংরা) স্বভাব হতে পারে না। বরং তারা পানিকে সব সময় পবিত্র, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতেন। অতএব এমন যুগের লোকদের সম্বন্ধে এমন ধারণা কিভাবে করা যায় অথচ তারা দ্বীনের অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে ব্যক্তিত্ব এবং মুসলমানদের সবচেয়ে সম্মানিত দল! তাছাড়া সেদেশে পানি দুষ্প্রাপ্য অথচ তার প্রয়োজন নিতান্তই বেশি। তা সত্ত্বেও পানির সাথে এমন আচরণ কি অত্যন্ত কঠিন কথা নয়!? এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানির ঘাট এবং নালায় মলমূত্র ত্যাগকারীর উপর লানত করেছেন। তাহলে কি করে তারা পানির কূপ ও নালাসমূহকে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট করতে পারে; আর তাতে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা হতে পারে? এমন আচরণ তাদের জন্য মোটেই মানানসই নয়। হ্যাঁ বিষয়টি এমন হতে পারে যে, ঐ কূপটি কোন মধ্যবর্তী স্থানে ছিল এবং পানির প্রবাহ রাস্তা ও ময়লা ফেলার স্থানের বর্জ্যকে ভাসিয়ে নিয়ে উক্ত কূপে নিক্ষেপ করতো। আর তাতে পানির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় তাতে কোন প্রভাব পড়তো না এবং পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন করতো না।[৩] এ বিষয়টি ইমাম মুনজিরী তার ‘মুখতাসার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

বুলুগুল মারাম হাদিস ২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, পানি পবিত্র জিনিস; কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না। হাদিসের মূল কথা হলো, পানি নিয়ে অযথা সন্দেহ করা ঠিক নয়। পানি পবিত্রতার মাধ্যম, তাই সাধারণ অবস্থায় সেটাকে পবিত্র ধরা হবে। পানির পবিত্রতা, নাপাক পানি, অজুর পানি—এসব বিষয়ে এই বর্ণনা সহজ একটি ভিত্তি দেয়। তবে একই অধ্যায়ের অন্য বর্ণনায় দেখা যায়, পানির রং, স্বাদ বা গন্ধ নাপাক বস্তু দ্বারা বদলে গেলে তার বিধান আলাদা হতে পারে। তাই এই হাদিস থেকে সরাসরি যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো—পানি মূলত পবিত্র এবং সামান্য সন্দেহের কারণে তাকে নাপাক বলা উচিত নয়। এটি মুসলিমদের জন্য সহজতা ও স্বস্তির শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পানি মূলত পবিত্র; অকারণে সন্দেহ করা উচিত নয়।
  • পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পানি বড় একটি নিয়ামত।
  • হাদিসটি পানির পবিত্রতা বিষয়ে সহজ ও মূল শিক্ষা দেয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন