২/৫. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ২৪১ - সালাতে খুশু ও কঙ্কর না সরানোর শিক্ষা
সালাতে খুশূ বা বিনয় নম্রতার প্রতি উৎসাহ প্রদান - সালাতে কংকর সরানোর বিধান
সালাতে খুশু ধরে রাখতে কঙ্কর না সরানোর শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ২৪১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২৪১
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلَا يَمْسَحِ الْحَصَى, فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍوَزَادَ أَحْمَدُ: «وَاحِدَةً أَوْ دَعْ
আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতে দাঁড়িয়ে কেউ যেন সামনের কঙ্কর অপসারণ না করে। কেননা, সালাত আদায়কারী ব্যক্তির সম্মুখে আল্লাহ্র রহমত সমাগত হয়। সহীহ্ সনদ সহকারে ৫ জনে [২৭৬] আহমাদ অতিরিক্ত শব্দ বৃদ্ধি করেছেনঃ “একবার কর নাহলে বিরত থাকবে।” [২৭৭]
[২৭৬] যঈফ। আবূ দাঊদ (৯৪৫; নাসায়ী ৩/৬; তিরমিযী ৩৭৯; ইবনু মাজাহ ১০৯৭; আহমাদ ৫/১৫০, ১৬৩, ১৭৯ হাদীসটিকে আবিল আহওয়াস সূত্রে আবূ যার্ হতে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ কক্ষনো না। কেননা, আবিল আহওয়াসের অবস্থা জানা যায় না। যেমনটি বলেছেন ইবনুল কাত্তান। হাফিয (রহঃ) এর কথা আশ্চর্যজনক। তিনি এখানে সনদ সহীহ হওয়ার দিক থেকে কোন উক্তিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। তিনি তাঁর তাকরীবে কখনো আবিল আহওয়াস থেকে বর্ণিত হাদীসকে (আরবী) গ্রহণযোগ্য বলেছেন। অর্থাৎ যখন তার অনুগামী হাদীস পাওয়া যাবে। নচেৎ তা দুর্বল বলে বিবেচিত হবে। আমি বলিঃ এ হাদীসের মধ্যে আরেকটি ত্রুটি আছে। সুতরাং হাদীসটি সর্বাবস্থায় দুর্বল।[২৭৭] আহমাদ ৫/১৬৩। হাদীসের মধ্যে ইবনু আবূ লায়লা নামক একজন রাবী আছেন, যিনি স্মরণশক্তির দিক থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এ হাদীসটি মুখস্থ রেখেছেন। পরবর্তী হাদীস এর প্রমাণ বহন করে। তুহফাতুল আওয়াযী (২/১৯৩) গ্রন্থে আব্দুর রহমান মুবারকপুরী বলেন, এই হাদীসের রাবী আবুল আহওয়াস সম্পর্কে মুনযীরী বলেন, এ নামে তিনি কাউকে চেনেন না ইয়াহইয়া বিন মুঈন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। ইবনু হাজার তাকে মাকবূল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সহীহ ইবনু খুযাইমাহ (৯১৩) গ্রন্থে আবুল আহওয়াসকে আলবানী মাজহুল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তামামুল মিন্নাহ (৩১৩) গ্রন্থেও আলবানী অনুরূপ বলেছেন। তবে আত-তামহীদ (২৪/১১৬) গ্রন্থে ইবনু আব্দুল বার হাদীসটিকে মারফূ ‘সহীহ মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম সুয়ূতী আল জামিউস সগীর গ্রন্থে ও ইমাম নববী আল খুলাসা (১/৪৮৫) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে বিন বায মাজমুয়া ফাতাওয়া (১১/২৬৫) গ্রন্থে, আহমাদ শাকের শরহু সুনানু তিরমিযী (২/২১৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতে খুশু ও মনোযোগ রাখার একটি সূক্ষ্ম আদব শেখানো হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, সে যেন সামনে থাকা কঙ্কর সরাতে ব্যস্ত না হয়। কারণ সালাতরত ব্যক্তির সামনে আল্লাহর রহমত আসে। অর্থাৎ নামাজে দাঁড়িয়ে ছোট ছোট কাজেও মন ছুটে যেতে পারে। তাই অকারণে সামনে হাত বাড়ানো, মাটি বা কঙ্কর ঠিক করা, বারবার নড়াচড়া করা—এসব থেকে নিজেকে সামলে রাখা দরকার। আহমাদের অতিরিক্ত বর্ণনায় এসেছে, প্রয়োজন হলে একবার করবে, নইলে ছেড়ে দেবে। তাই মূল শিক্ষা হলো, নামাজে মনোযোগ নষ্ট করে এমন কাজ কমানো এবং সালাতের মর্যাদা মনে রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে দাঁড়ালে অকারণে সামনে থাকা কঙ্কর বা মাটি সরানো উচিত নয়।
- নামাজে ছোট ছোট কাজও মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে।
- প্রয়োজন হলে একবার করা যেতে পারে, কিন্তু বারবার করা থেকে বিরত থাকা ভালো।
- সালাতের সামনে আল্লাহর রহমত আসে—এ কথা মনে রাখলে মন আরও স্থির হয়।
