২/১২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৫৪ - খুতবাহ চলাকালে কথা বলার সতর্কতা
জুমু‘আর সালাত - জুমু‘আর দুই খুতবাতে চুপ থাকা ওয়াজিব
খুতবাহ চলাকালে কথা বলা: জুমু‘আহর বড় সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ৪৫৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৫৪
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا, وَالَّذِي يَقُولُ لَهُ: أَنْصِتْ, لَيْسَتْ لَهُ جُمُعَةٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, بِإِسْنَادٍ لَا بَأْسَ بِهِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যে মুসল্লি কথা বলবে সে ভারবাহী গাধার মত; আর যে তাকে ‘চুপ থাক’ বলে তার জুমার হক আদায় হল না। -আহমাদ দোষমুক্ত সনদে। [৪৯২]
[৪৯২] বুখারী ১৫৯৭, ১৬০৫, ১৬১০, মুসলিম ১২৭০, ১২৭১, তিরমিযী ৮৬০, নাসায়ী ২৯৩৬, ২৯৩৭, ২৯৩৮, আবূ দাউদ ১৮৭৩, ইবনু মাজাহ ২৯৪৩, আহমাদ ১০০, ১৩২, ১৭৭, ১৫৫, মুওয়াত্তা মালেক ৮২৪, দারেমী ১৮৬৪। ইমাম হাইসামী তাঁর আল মাজমাউয যাওয়ায়িদ (২/১৮৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুজালিদ বিন সাঈদ রয়েছেন যাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন। একটি বর্ণনায় ইমাম নাসায়ী তাকে সিক্বাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম শওকানী তাঁর সাইলুল জাররার (১/৩০১), গ্রন্থে বলেন, উক্ত রাবীর ব্যাপারে হালকা বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু তিনি তাঁর নাইলুল আওত্বার (৩/৩৩৪) গ্রন্থে বলেন, অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী যঈফ তারগীব (৪৪০), তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (১৩৪২) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। তবে আহমাদ শাকের মুসনাদ আহমাদের তাহকীকে (৩/৩২৬) এর সনদকে হাসান বলেছেন।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবাহ চলাকালে কথা বলার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইমাম খুতবাহ দেওয়ার সময় যে মুসল্লী কথা বলে, সে বই বহনকারী গাধার মতো। আর যে তাকে ‘চুপ থাক’ বলে, তার জুমু‘আহর হক আদায় হলো না। এই কথাগুলো খুব শক্ত ভাষায় এসেছে, যাতে মুসল্লীরা খুতবাহর সময় চুপ থাকে এবং মনোযোগ দেয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, খুতবাহ চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথা তো দূরের কথা, অন্যকে চুপ করানোর কথাও মুখে না বলা। খুতবাহর আদব হলো নীরব থাকা, মনোযোগ দেওয়া এবং ইমামের কথা শোনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম খুতবাহ দিলে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- অন্যকে ‘চুপ থাক’ বলাও হাদিসে নিন্দিত হয়েছে।
- খুতবাহর সময় নীরবতা ও মনোযোগ জরুরি।
- জুমু‘আহর হক আদায়ে খুতবাহর আদব মানা দরকার।
