১/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫১ - বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গে প্রমাণের মান বোঝা
উযূর বিবরণ - উযূতে বিসমিল্লাহ বলার বিধান
ওজুতে বিসমিল্লাহ: অনুরূপ বর্ণনা ও ইমাম আহমাদের সতর্ক মন্তব্য
বুলুগুল মারাম : ৫১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫১
وَأَبِي سَعِيدٍ نَحْوُهُقَالَ أَحْمَدُ: لَا يَثْبُتُ فِيهِ شَيْءٌ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৬৫] আহমাদ (রহঃ) বলেন, ‘বিসমিল্লাহ্ বলা প্রসঙ্গে কিছু প্রমাণিত নেই।’ [৬৬]
[৬৫] আল-ইলালুল কুবরা (১১২-১১৩)[৬৬] যেমনটি “মাসায়েল ইবনু হানী” তে (১/১৬/৩) বর্ণিত হয়েছে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ কিন্তু হাদীসটি কতক সমর্থক থাকার কারণে সহীহ। হাফেজ ইবনু হাজার ব্যতীত অন্যরা একে সহীহ বলেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস-অংশে বলা হয়েছে, আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। এরপর ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহর বক্তব্য এসেছে—“বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে কিছু প্রমাণিত নেই।” তাই এই অংশটি শুধু আমলের কথা নয়; হাদিস যাচাইয়ের পদ্ধতিও শেখায়। কোনো কথা জনপ্রিয় হলেই সেটিকে শক্ত প্রমাণ বলা যায় না। সনদ, বর্ণনাকারী এবং হাদিসের মান দেখা দরকার। “ওজুতে বিসমিল্লাহ” বিষয়ে লেখার সময় এই সতর্কতা খুব জরুরি, কারণ পাঠক একদিকে আমলের গুরুত্ব জানতে চান, অন্যদিকে বর্ণনার শক্তিও জানতে চান। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ধর্মীয় কথা বলার সময় প্রমাণের মান স্পষ্ট করে বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনুরূপ বর্ণনা থাকলেও প্রমাণের মান যাচাই দরকার।
- ইমাম আহমাদের মন্তব্য হাদিস-তাহকিকের গুরুত্ব দেখায়।
- জনপ্রিয় কথা হলেও সনদ না দেখে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
- ওজুতে বিসমিল্লাহ আলোচনায় ভারসাম্য রাখা উচিত।
