৫/১. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৮৩ - শাবান মাসে নফল সাওমের শিক্ষা
নফল সওম ও তার নিষিদ্ধকাল - নাবী (ﷺ)-এর নফল রোযা পালনের পদ্ধতি
শাবান মাসে নফল সাওম: নবীজির আমলের সুন্দর শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৬৮৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৬৮৩
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ, وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ, وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلَّا رَمَضَانَ, وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْهُ صِيَامًا فِي شَعْبَانَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একাধারে (এত অধিক) সাওম পালন করতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সাওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সাওম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে রমজান ব্যতীত কোন পুরা মাসের সাওম পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোন মাসে অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি। শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। [৭২৮]
[৭২৮] বুখারী ৪৩, ১১৩২, ১১৫১, ১৯৬৯, মুসলিম ৭৪১, ৭৮২, ৭৮৩, ৭৮৫, নাসায়ী ৭৬২, ১৬১৬, ১৬৪২, আবু দাউদ ১২১৭, ১২৬৮, ১২৭০, ইবনু মাজাহ ১৭১০, ৪২২৮, আহমাদ ২৩৫২৩, মুওয়াত্তা মালেক ৪২২, ৬৮৮।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নফল সাওমের অভ্যাস বর্ণনা করেছেন। তিনি কখনো এত বেশি সাওম রাখতেন যে সাহাবীগণ ভাবতেন, তিনি আর সাওম ছাড়বেন না। আবার কখনো এমনভাবে সাওম না রেখে কাটাতেন যে তাঁরা ভাবতেন, তিনি আর নফল সাওম রাখবেন না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রমযান ছাড়া তিনি নবীজিকে কোনো পূর্ণ মাস সাওম রাখতে দেখেননি। তবে শাবান মাসে তিনি অন্য মাসের চেয়ে বেশি নফল সাওম রাখতেন। তাই এই হাদিসে শাবান মাসের সাওম এবং নফল ইবাদতে ভারসাম্যের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমযান ছাড়া নবীজি পূর্ণ মাস সাওম রাখতেন না।
- শাবান মাসে নবীজি বেশি নফল সাওম পালন করতেন।
- নফল ইবাদতে ধারাবাহিকতা ও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ইবাদতের ধরন বুঝতে সরাসরি বর্ণিত হাদিসের ভাষা গুরুত্ব পায়।
