৬/৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৭২৭ - হজ্জ ও উমরাহর ইহরামের ধরন
ইহরামের প্রকারভেদ ও তার গুণ পরিচয়
হজ্জ ও উমরাহর ইহরামের ধরন: হাজ্জাতুল বিদার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৭২৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৭২৭
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ - ﷺ - عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ, فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ, وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ, وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ, وَأَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - بِالْحَجِّ, فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَحَلَّ, وَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ, أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى كَانَ يَوْمَ النَّحْرِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাজ্জাতুল বিদার বছর আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ কেবল উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হাজ্জ ও উমরাহ উভয়টির ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ শুধু হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শুধু হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলেন। ফলে যারা কেবল উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা (উমরাহ সমাধা করে) হালাল হলেন আর যারা হাজ্জ বা হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা কুরবানীর দিন না আসা পর্যন্ত হালাল হতে পারলেন না। [৭৭৪]
[৭৭৪] বুখারী ২৯৪, ৩০৫, ৩১৬, ১৫১৮, ১৫৫৬, ১৫৬২, মুসলিম ১২১১, তিরমিযী ৯৩৪, ৯৪৫, নাসায়ী ২৯০, ২৪৮, আবূ দাঊদ ১৭৮২, ১৯৯৫, ইবনু মাজাহ ২৯৬৩, ২৯৯৯, আহমাদ ২৩৫৮১, ২৩৬৩৯, ১৮৬২।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৭২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) হাজ্জাতুল বিদার বছরের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে বের হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেবল উমরাহর ইহরাম বাঁধেন, কেউ হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাঁধেন, আবার কেউ শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজে শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধেন। এরপর যারা কেবল উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন, তারা উমরাহ শেষ করে হালাল হন। আর যারা হজ্জ অথবা হজ্জ ও উমরাহ একসঙ্গে নিয়্যাত করেছিলেন, তারা কুরবানীর দিন আসা পর্যন্ত হালাল হননি। এই হাদিসের মূল কীওয়ার্ড হলো “ইহরামের প্রকারভেদ”, “হজ্জ ও উমরাহর নিয়্যাত” এবং “হাজ্জাতুল বিদার হাদিস”। হাদিসটি দেখায়, ইহরামের ধরন অনুযায়ী হালাল হওয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ ও উমরাহর ইহরামের ধরন একাধিক হতে পারে।
- শুধু উমরাহর ইহরামকারীরা উমরাহ শেষে হালাল হয়েছিলেন।
- হজ্জ বা হজ্জ-উমরাহ একসঙ্গে নিয়্যাতকারীরা কুরবানীর দিন পর্যন্ত হালাল হননি।
- ইবাদতের নিয়্যাত তার পরবর্তী কাজের ধরনে প্রভাব ফেলে।
