৭/৫. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৫৯ - বন্ধক রাখা বস্তুর মালিকানা
সালম (অগ্রিম) ক্রয় বিক্রয়, ঋণ ও বন্ধক - বন্ধকদাতা কর্জ আদায়ে অপারগতার কারণে বন্ধকগ্রহীতা বন্ধক রাখা জিনেসের হকদার হবে না
বন্ধকী বস্তুর মালিকানা: লাভ ও লোকসানের ন্যায্য নিয়ম
বুলুগুল মারাম : ৮৫৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮৫৯
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَغْلَقُ الرَّهْنُ مِنْ صَاحِبِهِ الَّذِي رَهَنَهُ, لَهُ غُنْمُهُ, وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْحَاكِمُ, وَرِجَالهُ ثِقَاتٌ. إِلَّا أَنَّ الْمَحْفُوظَ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ إِرْسَالُهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন- বন্ধক রাখা বস্তু থেকে তার মালিককে বঞ্চিত করা যাবে না। যা লাভ হবে তা তার এবং লোকসানও তাকেই নিতে হবে। -হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য কিন্তু আবূ দাউদ ও অন্য মুহাদ্দিসের নিকটে এটা মুরসাল হাদীস বলে সংরক্ষিত। [৯১৭]
[৯১৭] হাকিম ২য় খণ্ড ৫১ পৃষ্ঠা, মারাসীল আবূ দাউদ ১৮৭ ইবনু হাজার আসকালানী আত্-তালখীসুল হাবীর ৩/১০০০ গ্রন্থে বলেনঃ বলা হয়ে থাকে যে, (আরবী) কথাটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিজের কথা। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৪০৬ গ্রন্থে মুরসাল বলেছেন, তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৮১৮ গ্রন্থে মুনকার যঈফ মন্তব্য করেন, আত তালীকাতুর রযীয়াহ ২/৪৮১ গ্রন্থে বলেন, সনদটি সহীহ মুসলিমের শর্তভিত্তিক। ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনান ২/৬১৬ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবূ আসমাহ ও বাশার রয়েছে দুজনই দুর্বল রাবী। মুহাম্মদ বিন আমর হতে বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম যাহাবী তানকীহুত তাহকীক ২/১০৭ গ্রন্থে বলেন (আরবী) এর সনদে আবদুল্লাহ বিন নাসর আল উসাম নির্ভরযোগ্য নয়।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বন্ধক রাখা বস্তুর মালিকানা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। বলা হয়েছে, বন্ধক রাখা বস্তু থেকে তার মালিককে বঞ্চিত করা যাবে না। যা লাভ হবে তা তার, আর লোকসানও তাকেই নিতে হবে। অর্থাৎ বন্ধক রাখা মানে মালিকানা পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়া নয়। বন্ধক হলো নিরাপত্তা বা দায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবস্থা, কিন্তু মালিকের অধিকার একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না। তবে হাদিসের শেষে উল্লেখ আছে, রাবীগণ নির্ভরযোগ্য হলেও আবূ দাউদ ও অন্যদের কাছে এটি মুরসাল হিসেবে সংরক্ষিত। তাই ব্যাখ্যায় সতর্কতা দরকার। তবু পাঠ্য অনুযায়ী শিক্ষা হলো, বন্ধকী সম্পদ নিয়ে জুলুম করা যাবে না এবং মালিকানা, লাভ ও ক্ষতির বিষয় ন্যায্যভাবে দেখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বন্ধকী বস্তু থেকে মালিককে পুরোপুরি বঞ্চিত করা যাবে না।
- লাভ ও লোকসানের বিষয় মালিকানার সঙ্গে যুক্ত।
- বন্ধক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি।
- হাদিসের সনদগত আলোচনার কথা থাকায় ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার।
