৭/১. অধ্যায়ঃ
عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - سُئِلَ: أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ? قَالَ: «عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ, وَكُلُّ بَيْعٍ مَبْرُورٍ». رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন- ‘কোন্ প্রকারের জীবিকা উত্তম?’ উত্তরে তিনি বললেন— নিজ হাতের কামাই এবং সৎ ব্যবসায়। -হাকিম একে সহীহ বলেছেন। [৮৩১]
[৮৩১] সহীহ, বাযযার ২য় খণ্ড ৮৩ পৃষ্ঠা, হাকিম ২য় খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা। সহিহ, তাওযিহুল আহকাম ৮/২১৮ পৃঃ
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «إِذَا اخْتَلَفَ الْمُتَبَايِعَانِ لَيْسَ بَيْنَهُمَا بَيِّنَةٌ، فَالْقَوْلُ مَا يَقُولُ رَبُّ السِّلْعَةِ أَوْ يَتَتَارَكَانِ» رَوَاهُ الْخَمْسَةُ، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
৭৮৩/১. তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে মতবিরোধের সময় যদি কোন সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকে সেক্ষেত্রে বিক্রেতার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে নতুবা তারা চুক্তি বাতিল করবে। -হাকিম একে সহীহ বলেছেন। [৮৩৩]
[৮৩৩] আবূ দাউদ ৩৫১১, তিরমিযী ১২৭০, হাদিসটি যঈফ, তবে বিভিন্ন সূত্রের কারণে শক্তিশালী হয়েছে, তাওযিহুল আকরাম ৪/২২৯ পৃঃ, তাই হাসান।
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ, وَمَهْرِ الْبَغِيِّ, وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিশ্রমিক (গ্রহণ করতে)। [৮৩৪]
[৮৩৪] বুখারী ২২৮২, ৫৩৪৬, ৫৭৬১, মুসলিম ১৫৬৭, তিরমিযী ১১৩৩, ১২৭৬, নাসায়ী ৪২৯২, ৪৬৬৬, আবূ দাউদ ৩৪২৮, ৩৪৮১, ইবনু মাজাহ ২১৫৯, ৩৭৪৪, আহমাদ ১৬৬২২, ১৬৬২৬, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৬৩, দারেমী ২৫৬৮। উক্ত হাদীসে তিনটি বিষয়ের হারাম সাব্যস্ত হয়।১. কুকুরের মূল্য নেওয়া হারাম। আর তা সমস্ত কুকুরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যা ইমাম মালেক এবং শাফেয়ী (রহঃ) এর অভিমত।২. ব্যভিচারিণীর উপার্জন হারাম।৩. গণক ভাগ্য গণনা করে যা কিছু নেয় তা হারাম। আর তা সকলের মতে হারাম।
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّهُ كَانَ [يَسِيرُ] عَلَى جَمَلٍ لَهُ أَعْيَا. فَأَرَادَ أَنْ يُسَيِّبَهُ. قَالَ: فَلَحِقَنِي النَّبِيُّ - ﷺ - فَدَعَا لِي, وَضَرَبَهُ، فَسَارَ سَيْرًا لَمْ يَسِرْ مِثْلَهُ, قَالَ: «بِعْنِيهِ بِوُقِيَّةٍ» قُلْتُ: لَا. ثُمَّ قَالَ: «بِعْنِيهِ» فَبِعْتُهُ بِوُقِيَّةٍ, وَاشْتَرَطْتُ حُمْلَانَهُ إِلَى أَهْلِي, فَلَمَّا بَلَغْتُ أَتَيْتُهُ بِالْجَمَلِ, فَنَقَدَنِي ثَمَنَهُ, ثُمَّ رَجَعْتُ فَأَرْسَلَ فِي أَثَرِي. فَقَالَ: «أَتُرَانِي مَاكَسْتُكَ لِآخُذَ جَمَلَكَ خُذْ جَمَلَكَ وَدَرَاهِمَكَ فَهُوَ لَكَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَهَذَا السِّيَاقُ لِمُسْلِمٍ
তিনি একটা উটের উপর উপবিষ্ট ছিলেন। উটটি অচল হয়ে যাওয়াতে তাকে ছেড়ে দেয়ার ইরাদা করলেন; তিনি বলেন, তখন নবী (ﷺ) -এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমার জন্য দু‘আ করলেন, আর উটটিকে প্রহার করলেন, তারপর থেকে উটটি এমন গতিতে চলতে লাগল যা ইতিপূর্বে আর চলেনি। তারপর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন- তুমি একে আমার নিকট এক উকিয়াহর বিনিময়ে বিক্রি কর। আমি বললাম, না।অতঃপর দ্বিতীয়বার তিনি বললেন, এটা আমার কাছে বিক্রি কর। ফলে আমি ঐটি তাঁর নিকট এক উকিয়াহ্র মূল্যে বিক্রি করে দিলাম এবং বাড়ি পর্যন্ত তার উপর চড়ে যাবার শর্ত করে নিলাম। যখন বাড়ি পৌঁছালাম তখন উটটি নিয়ে তাঁর নিকটে এলাম। ফলে সেটির নগদ মূল্য তিনি দিয়ে দিলেন। তারপর ফিরে আসছি এমন সময় তিনি আমার পেছনে লোক পাঠালেন এবং আমাকে বললেন- তুমি কি মনে করছ যে, আমি তোমার উটটি কম মূল্য দিয়ে নিতে চাচ্ছি- তুমি তোমার উট ও দিরহামগুলো নাও, এ (সবই) তোমার জন্য। -এ (শব্দের) ধারাবাহিকতা মুসলিমের। [৮৩৫]
[৮৩৫] বুখারী ৪৪৩, ১৮০১, ২০৯৭, মুসলিম ৭১৫, তিরমিযী ১১০০, নাসায়ী ৪৫৯০, ৪৫৯১, আবূ দাউদ ৩৩৪৭, ৩৫০৫, ইবনু মাজাহ ১৮৬০, আহমাদ ১৩৭১০, ১৩৭৬৪, দারেমী ২২১৬।
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْهُ قَالَ: أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنَّا عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ. فَدَعَا بِهِ النَّبِيُّ - ﷺ - فَبَاعَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
কোন এক সাহাবী তাঁর একমাত্র দাসকে মুদাব্বের* করে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। সেটি ছাড়া তাঁর আর কোন সম্পদ ছিল না। ফলে নবী (ﷺ) দাসটিকে নিয়ে ডেকে আনালেন ও বিক্রি করে দিলেন। [৮৩৬]
[৮৩৬] বুখারী ২২৩১, ২৪০৪, মুসলিম ৯৯৭, তিরমিযী ১২১৯, নাসায়ী ৪৬৫২, ৪৬৫৩, আবূ দাউদ ৩৯৫৫, ৩৯৫৭, ইবনু মাজাহ ২৫১২, আহমাদ ১৩৭১৯, ১৩৮০৩, দারেমী ২৫৭৩। যে দাস বা দাসীকে তার মনিব জীবিতাবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়া এমন দাস-দাসীকে মুদাব্বের বলা হয়। অর্থাৎ মনিব মারা যাবার সাথে সাথে সে মুক্ত হয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাদীস থেকে দলীল।জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (আরবী) উযরাহ সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষণা দিল, বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কি এ ছাড়া অন্য কোন সম্পদ আছে? সে বললঃ না। তিনি বললেন, কে আমার কাছ থেকে এ গোলামটি খরিদ করবে? নুয়াইম বিন আব্দুল্লাহ আল আদাবী একে আটশত দিরহামের বিনিময়ে খরিদ করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একে নিয়ে আসা হলো, তিনি তাকে তার কাছে দিয়ে দিলেন। অতঃপর বললেন, তুমি প্রথমে নিজেকে দান করবে। যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তাহলে তোমার পরিবারের পিছনে ব্যয় করবে। যদি তারপরও কিছু অতিরিক্ত থাকে, তাহলে তোমার আত্মীয় স্বজনদের সদকা করবে।(আরবী) অর্থাৎ মানবের মৃত্যুর সাথে দাস আযাদের সম্পর্ক করা। এ ভাবে বলা যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি আযাদ।
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, وَرَضِيَ عَنْهَا -; أَنَّ فَأْرَةً وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ, فَمَاتَتْ فِيهِ, فَسُئِلَ النَّبِيُّ - ﷺ - عَنْهَا. فَقَالَ: «أَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا, وَكُلُوهُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَزَادَ أَحْمَدُ. وَالنَّسَائِيُّ: فِي سَمْنٍ جَامِدٍ
ঘি-এর মধ্যে পড়ে ইঁদুর মারা যাওয়া সম্বন্ধে নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, ইঁদুরটিকে উঠিয়ে ফেলে তার চারপাশের ঘি ফেলে দিয়ে তা খাও। - আহমাদ ও নাসায়ী বৃদ্ধি করেছেনঃ “জমে যাওয়া ঘি-এর জন্য (এরূপ ব্যবস্থা)”। [৮৩৭]
[৮৩৭] বুখারী ২৩৫, ২৩৬, ৪৫৩৮, তিরমিযী ১৭৯৮, নাসায়ী ৪২৫৮, ৪২৫৯, ৪২৬০, আবূ দাউদ ৩৮৪১, ৩৮৪২, আহমাদ ২৬২৫৬, ২৬৩০৭, মুওয়াত্তা মালেক ১৮১৫, দারেমী ৭৩৮, ২০৮৩।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا وَقَعَتِ الْفَأْرَةُ فِي السَّمْنِ, فَإِنْ كَانَ جَامِدًا فَأَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا, وَإِنْ كَانَ مَايِعًا فَلَا تَقْرَبُوهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَقَدْ حَكَمَ عَلَيْهِ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو حَاتِمٍ بِالْوَهْمِ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন- যদি জমা ঘি-এর মধ্যে ইঁদুর পড়ে তাহলে ইঁদুরটি ও তার আশেপাশের ঘি ফেলে দাও, আর যদি ঘি তরল হয় তাহলে (ঘি নেয়ার জন্য) এগিয়ো না। (তা সম্পূর্ণ গ্রহণের অনুপযোগী)। - বুখারী ও আবূ হাতিম এ হাদীসের রাবীর উপর অহমের হুকুম জারী করেছেন (তার স্মৃতিশক্তি ছিল দুর্বল)। [৮৩৮]
[৮৩৮] আবূ দাউদ ৩৮৪১, হাদিসটি শায ও ত্রুটিযুক্ত, তাওযিহুল আহকাম ৪/২৪২ পৃঃ
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ: سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ ثَمَنِ السِّنَّوْرِ وَالْكَلْبِ فَقَالَ: زَجَرَ النَّبِيُّ - ﷺ - عَنْ ذَلِكَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌوَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ: إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ
তিনি জাবির (রাঃ) - কে বিড়াল ও কুকুরের মূল্য (এর বৈধা বৈধ) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কারণে ধমক দিয়েছেন। - নাসায়ীতে রয়েছে শিকারী কুকুরের মূল্য ব্যতীত। অর্থাৎ শিকারী কুকুরের মূল্য বৈধ। [৮৩৯]
[৮৩৯] মুসলিম ১৫৬৯, তিরমিযী ১২৭৯, নাসায়ী ৪২৯৫, ৪৬৬৮, আবূ দাউদ ৩৪৭৯, ৩৪৮০, ইবনু মাজাহ ২১৬১, আহমাদ ১৪০০২, ১৪৭২৮।
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: جَاءَتْنِي بَرِيرَةُ, فَقَالَتْ: كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعٍ أُوَاقٍ, فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ, فَأَعِينِينِي. فَقُلْتُ: إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ وَيَكُونَ وَلَاؤُكِ لِي فَعَلْتُ, فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا. فَقَالَتْ لَهُمْ; فَأَبَوْا عَلَيْهَا, فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِهِمْ, وَرَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - جَالِسٌ. فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَبَوْا إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ, فَسَمِعَ النَّبِيُّ - ﷺ - فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةُ النَّبِيَّ - ﷺ -. فَقَالَ: «خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلَاءَ, فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ, ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - فِي النَّاسِ [خَطِيبًا], فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ. ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ, مَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ - عز وجل - مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ, وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ, قَضَاءُ اللَّهِ أَحَقُّ, وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ, وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّوَعِنْدَ مُسْلِمٍ فَقَالَ: اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلَاءَ
বারীরাহ (রাঃ) আমার কাছে এসে বলল, আমি আমার মালিক পক্ষের সাথে নয় উকিয়া দেয়ার শর্তে মুকাতাবা [৮৪০] করেছি- প্রতি বছর যা হতে এক উকিয়া করে দিতে হবে। আপনি (এ ব্যাপারে) আমাকে সাহায্য করুন। আমি বললাম, যদি তোমার মালিক পক্ষ পছন্দ করে যে, আমি তাদের একবারেই তা পরিশোধ করব এবং তোমার ওয়ালা-এর অধিকার আমার হবে, তবে আমি তা করব।তখন বারীরাহ (রাঃ) তার মালিকদের নিকট গিয়ে তা বলল। তারা তাতে অস্বীকৃতি জানাল। বারীরাহ (রাঃ) তাদের নিকট হতে (আমার কাছে) এল। আর তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে বলল, আমি (আপনার) সে কথা তাদের কাছে পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার সংরক্ষণ ছাড়া রাযী হয়নি। নবী (ﷺ) শুনলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে তা সবিস্তারে জানালেন। তিনি বললেন, তুমি তাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও। কেননা, ওয়ালা এর হক তারই, যে আযাদ করে। ‘আয়িশা (রাঃ) তাই করলেন।এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, লোকদের কী হলো যে, তারা আল্লাহর বিধান বহির্ভূত শর্তারোপ করে। আল্লাহর বিধানে যে শর্তের উল্লেখ নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, একশত শর্ত করলেও না। আল্লাহর ফায়সালাই সঠিক, আল্লাহর শর্তই সুদৃঢ়। ওয়ালার হক তো তারই, যে মুক্ত করে।শব্দ বিন্যাস বুখারীর। মুসলিমে আছে- নবী (ﷺ) আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, তাকে কিনে নাও, তাদের জন্য অলা-র শর্ত কর। [৮৪১]
[৮৪০] বুখারী ৪৫৬, ১৪৯৩, ২১৫৫, ২৫৩৬, ২৫৬১, মুসলিম ১৫০৪, তিরমিযী ১২৫৬, আবূ দাউদ ৩৯২৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৩, মুওয়াত্তা মালেক ১৫১৯। নিজের দাস-দাসীকে কোন কিছুর বিনিময়ে আযাদ করার চুক্তিকে মুকাতাবা বলে।[৮৪১] 'অলা' অর্থ মুক্তির পর দাস দাসীর সঙ্গে মুক্তিদাতার আত্মীয়তা সুলভ সম্পর্ক ও মিরাস লাভের অধিকার।
৭/১. অধ্যায়ঃ
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: نَهَى عُمَرُ عَنْ بَيْعِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ، فَقَالَ: لَا تُبَاعُ, وَلَا تُوهَبُ, وَلَا تُورَثُ, لِيَسْتَمْتِعْ بِهَا مَا بَدَا لَهُ، فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ. رَوَاهُ مَالِكٌ, وَالْبَيْهَقِيُّ, وَقَالَ: رَفَعَهُ بَعْضُ الرُّوَاةِ, فَوَهِمَ
উমার (রাঃ) জননী দাসী বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, তিনি বলেছেন, বিক্রি করা যাবে না, হেবা (দান) করা যাবে না, ওয়ারিস হিসেবেও কেউ তাকে অধিগ্রহণ করতে পারবে না। তার মালিক যতদিন চাইবে ততদিন তার দ্বারা ফায়দা উঠাবে। মালিকের মৃত্যুর পর সে স্বাধীন হয়ে যাবে। -বাইহাকী বলেছেন- এ হাদীসের কিছু বর্ণনাকারী, অহম বা অনিশ্চয়তার ভিত্তিতে ‘মারফূ’ বর্ণনা করেছেন। [৮৪২]
[৮৪২] ইবনু মাজাহ ২৫১৭, আবূ দাউদ ৩৯৫৪। সহিহ মাওকুফ, তাওযিহুল আহকাম ৪/২৫৬