৭/৮. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৭৭ - ঋণ ও জানাযার গুরুত্ব
অপর ব্যক্তির উপর ঋণ ন্যস্ত করা ও কোন বস্তুর যামীন হওয়া - মৃত ব্যক্তির কর্জের জিম্মা নেওয়া জায়েয এবং তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি (শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না)
মৃত ব্যক্তির ঋণ: জানাযার আগে দায় মেটানোর শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৮৭৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮৭৭
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: تُوُفِّيَ رَجُلٌ مِنَّا, فَغَسَّلْنَاهُ, وَحَنَّطْنَاهُ, وَكَفَّنَّاهُ, ثُمَّ أَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - فَقُلْنَا: تُصَلِّي عَلَيْهِ? فَخَطَا خُطًى, ثُمَّ قَالَ: «أَعَلَيْهِ دَيْنٌ» قُلْنَا: دِينَارَانِ، فَانْصَرَفَ, فَتَحَمَّلَهُمَا أَبُو قَتَادَةَ، فَأَتَيْنَاهُ, فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ: الدِّينَارَانِ عَلَيَّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - «أُحِقَّ الْغَرِيمُ وَبَرِئَ مِنْهُمَا الْمَيِّتُ?» قَالَ: نَعَمْ, فَصَلَّى عَلَيْهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের কোন একজন সাহাবী ব্যক্তি ইন্তেকাল করায় আমরা তার গোসল দিলাম, খুশবু লাগালাম, কাফন পরালাম। তারপর তার লাশ নবী (ﷺ) -এর নিকটে হাজির করলাম। আমরা বললাম, তার জানাযা পড়ান। তিনি দু-এক পা এগিয়ে আসলেন, অতঃপর বললেন, তার কি কোন ঋণ রয়েছে? আমরা বললাম, দুটি দীনার (ঋণ আছে)। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) ফিরে গেলেন। আবু কাতাদাহ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দুটির ঋণ পরিশোধের জিম্মা নিলেন।তারপর আমরা নবী (ﷺ) -এর নিকটে এলাম, আবু কাতাদাহ বললেন, আমার জিম্মায় ঐ দীনার দুটি রইলো। তৎপর নবী (ﷺ) বললেন, তাহলে ঋণ দাতার হক এবারে সাব্যস্ত হল এবং মৃতব্যক্তি ঋণ থেকে মুক্ত হল তো? আবু কাতাদাহ উত্তরে বললেন, জি-হাঁ। তারপর নবী (ﷺ) মৃত সাহাবীর জানাযার সালাত আদায় করলেন।ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ্ বলেছেন। (৯৪২)
[৯৪২] মুসলিম ৪৬৭. আবু দাউদ ২৯৫৪, ২৯৫৬, ৩৩৪৩, নাসায়ী ১৫৭৮, ১৯৬২, ইবনু মাজহ ২৪১৬, আহমাদ ১৩৭৪৪, ১৩৯২৪, ইবনু হিব্বান ৩০৬৪।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ) একটি ঘটনার কথা বলেন। একজন সাহাবী মারা গেলে তাঁকে গোসল, সুগন্ধি ও কাফন দেওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জানাযার জন্য আনা হয়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তার কোনো ঋণ আছে কি? বলা হলো, দুই দীনার ঋণ আছে। তখন তিনি ফিরে যান। পরে আবূ কাতাদাহ (রাঃ) সেই দুই দীনারের জিম্মা নেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চিত হন যে পাওনাদারের হক সাব্যস্ত হয়েছে এবং মৃত ব্যক্তি ঋণ থেকে মুক্ত হলো কি না। এরপর তিনি জানাযা পড়ান। এই হাদিস ঋণের দায় কত গুরুতর, তা স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত ব্যক্তির ঋণকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
- ঋণ পরিশোধের জিম্মা নেওয়া বড় দায়িত্ব।
- পাওনাদারের হক নিশ্চিত করা জরুরি।
- ঋণ মানুষের মৃত্যুর পরও গুরুত্ব রাখে।
