৫/৫৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০১০ - কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা

কিবলার বর্ণনা।

বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১০১০

حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ عَمْرٍو الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا وَصُرِفَتِ الْقِبْلَةُ إِلَى الْكَعْبَةِ بَعْدَ دُخُولِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ بِشَهْرَيْنِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ إِذَا صَلَّى إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ أَكْثَرَ تَقَلُّبَ وَجْهِهِ فِي السَّمَاءِ وَعَلِمَ اللَّهُ مِنْ قَلْبِ نَبِيِّهِ ـ ﷺ ـ أَنَّهُ يَهْوَى الْكَعْبَةَ فَصَعِدَ جِبْرِيلُ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يُتْبِعُهُ بَصَرَهُ وَهُوَ يَصْعَدُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ يَنْظُرُ مَا يَأْتِيهِ بِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ﴾قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ} الآيَةَفَأَتَانَا آتٍ فَقَالَ إِنَّ الْقِبْلَةَ قَدْ صُرِفَتْ إِلَى الْكَعْبَةِ وَقَدْ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ وَنَحْنُ رُكُوعٌ فَتَحَوَّلْنَا فَبَنَيْنَا عَلَى مَا مَضَى مِنْ صَلاَتِنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «يَا جِبْرِيلُ كَيْفَ حَالُنَا فِي صَلاَتِنَا إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ» . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ﴿ .

বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা আঠার মাস যাবত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত পড়ি। তাঁর হিজরত করে মদীনায় আসার দু’মাস পর কাবা শরীফের দিকে কেবলা পরিবর্তিত করা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, তখন অধিকাংশ সময় তিনি তাঁর মুখমণ্ডল আকাশের দিকে ফিরাতেন। আল্লাহ তাঁর নবীর মনের আকাঙ্ক্ষা জানতেন যে, তিনি কাবাকে পছন্দ করেন। জিবরাঈল (আঃ) আরোহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দৃষ্টি তাঁর অনুসরণ করে। তিনি আসমান ও যমীনের মাঝখান দিয়ে অগ্রসর হন। নবী (ﷺ) লক্ষ্য করেন, তিনি কী হুকুম নিয়ে আসেন তাঁর জন্য।তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) : “আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি ….” (সূরা বাকারাঃ ১৪৪)।এরপর আমাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বলেন, নিশ্চয় কেবলা তো কাবার দিকে পরিবর্তিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বায়তুল মাকদিসকে কেবলা করে আমাদের দু’রাকআত সালাত পড়া হয়েছে। আমরা রুকূ‘তে থাকা অবস্থায় (নতুন) কেবলার দিকে ঘুরে গেলাম এবং আমাদের অবশিষ্ট সালাত বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে জিবরাঈল! আমাদের বাইতুল মাকদিসের সালাতের অবস্থা কী?তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) : “আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন” (সূরা বাকারাঃ ১৪৩)।

[১০১০] বুখারী ৪১, ৩৯৯, ৪৪৮৬, ৪৪৯২, ৭২৫২; মুসলিম ৫২১-২, তিরমিযী ৩৪০, নাসায়ী ৪৮৮-৮৯, ৭৪২; আহমাদ ১৮০২৬, ১৮০৬৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: মুনকার। উক্ত হাদিসের রাবী আলকামাহ বিন আমর আদ-দারিমী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অপরিচিত।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০১০-এর সারসংক্ষেপ

কোর টপিক: কিবলা পরিবর্তন। এই দীর্ঘ হাদিসে বারাআ (রাঃ) বর্ণনা করেন, তারা আঠারো মাস রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত পড়েন। মদীনায় আসার দুই মাস পর কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বাইতুল মাকদিসের দিকে সালাত আদায়ের সময় আকাশের দিকে তাকাতেন, আর আল্লাহ জানতেন তিনি কাবাকে পছন্দ করেন। এরপর সূরা বাকারা ১৪৪ নাজিল হয়। সংবাদ আসার পর তারা রুকু অবস্থায় নতুন কিবলার দিকে ঘুরে যান এবং বাকি সালাত বাইতুল্লাহর দিকে পড়েন। আগের সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন হলে আয়াত নাজিল হয় যে আল্লাহ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিবলা এক সময় বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়েছিল।
  • সাহাবিরা কিবলা পরিবর্তনের খবর পেয়ে সালাতের মধ্যেই দিক বদল করেন।
  • আগের কিবলার দিকে আদায় করা সালাত নষ্ট বলা হয়নি।
  • আল্লাহ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অন্তরের আকাঙ্ক্ষা জানতেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন