৫/৮১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০৯১ - জুমায় ওযু যথেষ্ট, গোসল উত্তম
জুমুআহ্র দিনের গোসল ঐচ্ছিক।
জুমার দিনে ওযু ও গোসল: কোনটি উত্তম?
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৯১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১০৯১
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْمَكِّيُّ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ يُجْزِئُ عَنْهُ الْفَرِيضَةُ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি জুমুআহ্র দিন ওজু করলো, সে উত্তম কাজই করলো এবং ফরজ আদায়ের জন্য তা তার পক্ষে যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি গোসল করে, তবে গোসলই অধিক উত্তম।
[১০৯১] ফরজ আদায়ের জন্য যথেষ্ট- এ কথা ব্যতীত সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৩৮০, মিশকাত ৫৪০। উক্ত হাদিসের রাবী১. ইসমাইল বিন মুসলিম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনু মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল তাছাড়া তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন।২. ইয়াযীদ আর-রাকশী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনার চেয়ে রাস্তা কেটে বসে যাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের পবিত্রতা বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কথা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ওযু করলো, সে উত্তম কাজই করলো এবং ফরজ আদায়ের জন্য তা তার পক্ষে যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি গোসল করলো, তার জন্য গোসলই অধিক উত্তম। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, জুমার সালাতে আসার আগে পবিত্রতা অর্জন জরুরি। ওযু যথেষ্ট বলা হয়েছে, আবার গোসলকে বেশি উত্তম বলা হয়েছে। তাই জুমার দিনের প্রস্তুতিতে কেউ শুধু ওযু করলে হাদিসে তার ভালো দিক এসেছে, আর গোসল করলে আরও উত্তম দিক এসেছে। এই শিক্ষা কঠোরতা নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা ও উত্তম আমলের দিকে উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনে ওযু করলে ফরজ আদায়ের জন্য যথেষ্ট বলা হয়েছে।
- গোসলকে অধিক উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- জুমার প্রস্তুতিতে পবিত্রতার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
