৫/১৫১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৬০ - সালাতুল খাওফের নববী পদ্ধতি
সলাতুল খাওফ বা (শংকাকালীন) সালাত।
সালাতুল খাওফ: ভয় ও সংকটে জামাআতের শৃঙ্খলা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৬০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১২৬০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلَّى بِأَصْحَابِهِ صَلاَةَ الْخَوْفِ فَرَكَعَ بِهِمْ جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَالصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ وَالآخَرُونَ قِيَامٌ حَتَّى إِذَا نَهَضَ سَجَدَ أُولَئِكَ بِأَنْفُسِهِمْ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الْمُقَدَّمُ حَتَّى قَامُوا مُقَامَ أُولَئِكَ وَتَخَلَّلَ أُولَئِكَ حَتَّى قَامُوا مُقَامَ الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ فَرَكَعَ بِهِمُ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلُونَهُ فَلَمَّا رَفَعُوا رُءُوسَهُمْ سَجَدَ أُولَئِكَ سَجْدَتَيْنِ فَكُلُّهُمْ قَدْ رَكَعَ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَسَجَدَتْ طَائِفَةٌ بِأَنْفُسِهِمْ سَجْدَتَيْنِ وَكَانَ الْعَدُوُّ مِمَّا يَلِي الْقِبْلَةَ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। তিনি তাঁর নিকটস্থ সকলকে নিয়ে রুকূ‘ করেন এবং অন্যরা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথম দল সিজদা করে অবসর হলে দ্বিতীয় দল স্বতন্ত্রভাবে দু’ টি সিজদা করে।অতঃপর প্রথম দল পিছনে সরে গিয়ে পূর্বোক্ত দলের স্থানে অবস্থান নেয় এবং শেষোক্ত দল সামনে অগ্রসর হয়ে (জামাআতে) প্রথম দলের স্থানে এসে দাঁড়ায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকটস্থ সকলকে নিয়ে রুকূ‘ করেন এবং সিজদা করেন। তারা সিজদা থেকে অবসর হলে দ্বিতীয় দল দু’টি সিজদা করে। তাদের প্রতিটি দল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক রাকআত সালাত পড়ে এবং পৃথকভাবে এক রাকআত পড়ে, তখন শত্রুবাহিনী তাদের সম্মুখভাগে ছিল।
[১২৬০] বুখারী ৪১৩৭, মুসলিম ৮৪০/১-২, নাসায়ী ১৫৪৫-৪৮, আহমাদ ১৪৫১১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১১১২।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতুল খাওফ বা ভয়কালীন নামাজের একটি পদ্ধতি দেখা যায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের নিয়ে এমন অবস্থায় সালাত আদায় করেন, যখন শত্রুবাহিনী সামনে ছিল। সবাই একসাথে রুকুতে অংশ নেয়, কিন্তু সিজদার সময় দল ভাগ করা হয়। এক দল নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে সিজদা করে, অন্য দল দাঁড়িয়ে থাকে। পরে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারা নিজেরা সিজদা করে। এরপর দুই দল জায়গা বদল করে, যাতে সবাই জামাআতের অংশও পায় এবং সতর্ক অবস্থানও থাকে। হাদিসটি দেখায়, ভয় ও বিপদের সময়ও সালাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সাথে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ইমামের অনুসরণ—সবকিছুর ভারসাম্য রাখা হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইবাদত অবহেলা নয়; বরং অবস্থার সাথে মিলিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আদায় করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয় ও বিপদের সময়ও সালাতের গুরুত্ব কমে যায় না।
- জামাআতে ইমামের অনুসরণ করতে হয়, তবে প্রয়োজনের সময় দলভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা যায়।
- সতর্কতা ও ইবাদত—দুটিই মুসলিম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
