০/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৭ - ইবনু উম্মে আবদ-এর মর্যাদা
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ)- এর সম্মান
ইবনু উম্মে আবদ-এর মর্যাদা: নেতৃত্বে পরামর্শের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৩৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৩৭
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «لَوْ كُنْتُ مُسْتَخْلِفًا أَحَدًا عَنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ لاَسْتَخْلَفْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ» .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি যদি পরামর্শ না করেই কাউকে খলীফা নিযুক্ত করতাম, তাহলে বিন উম্মে আব্দকেই খলীফা নিযুক্ত করতাম।
[১] তিরমিযী ৩৮০৮, আহমাদ ৫৬৭, ৫৪৮, ৫৫৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬২২২, যঈফাহ ২৩২৭। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস (আবদুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি যদি পরামর্শ না করেই কাউকে খলীফা নিযুক্ত করতেন, তাহলে ইবনু উম্মে আবদকে খলীফা নিযুক্ত করতেন। ইবনু উম্মে আবদ বলতে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ)-কে বোঝানো হয়—এটি ইসলামী স্কলারদের পরিচিত ব্যাখ্যা। হাদিসের মূল শিক্ষা দুটি দিকে যায়। একদিকে ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর মর্যাদা ও যোগ্যতার প্রশংসা আছে। অন্যদিকে “পরামর্শ” বা মাশওয়ারার গুরুত্বও বোঝা যায়, কারণ কথাটিতে পরামর্শ ছাড়া নিযুক্ত করার প্রসঙ্গ এসেছে। তাই এই বর্ণনা নেতৃত্ব, যোগ্যতা এবং সাহাবীদের মর্যাদা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দাবি না করে বলা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জ্ঞান ও চরিত্রকে উচ্চ মর্যাদায় দেখতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবনু উম্মে আবদ-এর জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ প্রশংসা এসেছে।
- নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পরামর্শের গুরুত্ব এই হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- যোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা নেতৃত্বের বড় ভিত্তি।
- সাহাবীদের মর্যাদা বুঝতে নবীর কথাই মূল মানদণ্ড।
