৫/২০২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৪২৫ - সালাতের হিসাব ও নফলের ভূমিকা
সর্বপ্রথম বান্দার সলাতের হিসাব নেয়া হবে।
কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব: ফরজ সালাত ও নফল সালাত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৪২৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৪২৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ حَكِيمٍ الضَّبِّيِّ، قَالَ قَالَ لِي أَبُو هُرَيْرَةَ إِذَا أَتَيْتَ أَهْلَ مِصْرِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلاَةُ الْمَكْتُوبَةُ فَإِنْ أَتَمَّهَا وَإِلاَّ قِيلَ انْظُرُوا هَلْ لَهُ مِنْ تَطَوُّعٍ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوُّعٌ أُكْمِلَتِ الْفَرِيضَةُ مِنْ تَطَوُّعِهِ ثُمَّ يُفْعَلُ بِسَائِرِ الأَعْمَالِ الْمَفْرُوضَةِ مِثْلُ ذَلِكَ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি তোমার শহরে পৌছে তার বাসিন্দাদের অবহিত করবে যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি : কিয়ামতের দিন মুসলিম বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম ফরজ সালাতের হিসাব নেয়া হবে। যদি সে তা পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে (তবে তো ভালো), অন্যথায় বলা হবে : দেখো তো তার কোন নফল সালাত আছে কি না? যদি তার নফল সালাত থেকে থাকে, তবে তা দিয়ে তার ফরজ সালাত পূর্ণ করা হবে। অতঃপর অন্যান্য সব ফরজ আমলের ব্যাপারেও অনুরূপ ব্যবস্থা করা হবে।
[১৪২৫] তিরমিযী ৪১৩, নাসায়ী ৪৬৫-৬৭, আবূ দাঊদ ৮৬৪, আহমাদ ৭৮৪২, ৯২১০, ১৬৫০১; ইবনু মাজাহ ১৪২৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮১০, মিশকাত ১৩৩০-১৩৩১। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন যায়দ সম্পর্কে ইয়াহিয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহিয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ সালিহ। আল-আজলী বলেন, কোন সমস্যা নেই।২. আনাস বিন হাকীম আদ-দাব্বী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার বিষয়টি অজ্ঞাত। ইবনুল কাত্তান বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৪২৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সালাতের হিসাব। এই হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন মুসলিম বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম ফরজ সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সে ফরজ সালাত পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে, তবে তা ভালো। আর যদি ঘাটতি থাকে, তখন দেখা হবে তার কোনো নফল সালাত আছে কি না। নফল সালাত থাকলে তা দিয়ে ফরজ সালাতের ঘাটতি পূরণ করা হবে। এরপর অন্যান্য ফরজ আমলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা করা হবে। এই হাদিস সালাতের গুরুত্ব খুব পরিষ্কার করে। ফরজ সালাত আগে, আর নফল সালাত তার সহায়ক। তাই একজন মুসলিমের উচিত ফরজ সালাত ঠিক রাখা এবং নফল আমলও অবহেলা না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিয়ামতের দিন সালাতের হিসাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
- ফরজ সালাত পূর্ণভাবে আদায় করার চেষ্টা করা দরকার।
- নফল সালাত ফরজের ঘাটতি পূরণের কারণ হতে পারে।
- অন্যান্য ফরজ আমলের হিসাবও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।
