৮/৩. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৭ - সোনা-রূপার যাকাত ও মালের পবিত্রতা

যে মালের যাকাত আদায় করা হয় তা পুঞ্জীভূত সম্পদ নয়।

সোনা-রূপার যাকাত: মালের পবিত্রতা ও দায়িত্ব

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৮৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْمِصْرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَلَحِقَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ لَهُ قَوْلُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ {وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ﴿.قَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ مَنْ كَنَزَهَا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا فَوَيْلٌ لَهُ إِنَّمَا كَانَ هَذَا قَبْلَ أَنْ تُنْزَلَ الزَّكَاةُ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ جَعَلَهَا اللهُ طَهُورًا لِلْأَمْوَالِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَقَالَ مَا أُبَالِي لَوْ كَانَ لِي أُحُدٌ ذَهَبًا أَعْلَمُ عَدَدَهُ وَأُزَكِّيهِ وَأَعْمَلُ فِيهِ بِطَاعَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ.

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর মুক্ত দাস খালিদ বিন আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ্‌ বিন উমর (রাঃ) এর সাথে বের হলাম।এক বেদুঈন এসে তাঁকে আল্লাহ্‌র বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলোঃ “যারা সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে না...”(সূরা তওবাঃ ৩৪)।ইবনু উমর (রাঃ) তাকে বলেন, যে ব্যক্তি সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, অথচ এর যাকাত আদায় করে না, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। এ অবস্থা ছিল যাকাতের বিধান নাযিল হওয়ার আগের। পরবর্তীতে যাকাতের বিধান নাযিল হলে যাকাতকেই আল্লাহ্‌ মালের পবিত্রতাকারী সাব্যস্ত করেন। অতঃপর ইবনু উমর (রাঃ) লোকটির দিকে তাকিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আমার পরোয়া নেই যে, উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও যদি আমার হাতে আসে, তবে আমি তার পরিমাণ নিরূপণ করে এর যাকাত পরিশোধ করবো এবং মহান আল্লাহ্‌র হুকুম পালনে তা ব্যয় করবো।

[১৭৮৭] সহীহুল বুখারী ১৪০৪, সহীহাহ ২/৯৬-৯৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে যে ব্যক্তি অনেক পূর্বে হাদিস গ্রহণ করেছেন তার হাদিস সহীহ। আমর বিন আল-ফাল্লাস বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাফস উমার বিন শাহীন বলেন, তিনি সিকাহ। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল, তিনি সিকাহ নন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক বেদুঈন ইবনু উমর (রাঃ)-কে সূরা তওবার সেই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যেখানে সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করে আল্লাহর পথে ব্যয় না করার কথা এসেছে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সোনা-রূপা জমা রাখে কিন্তু এর যাকাত আদায় করে না, তার জন্য ধ্বংসের সতর্কতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাকাতের বিধান নাজিল হওয়ার পর আল্লাহ যাকাতকে মালের পবিত্রতাকারী করেছেন। এরপর তিনি বলেন, উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা থাকলেও তিনি তার হিসাব জানবেন, যাকাত দেবেন এবং আল্লাহর আনুগত্যে তা ব্যয় করবেন। এখানে সোনা-রূপার যাকাত, সম্পদের হিসাব এবং আল্লাহর হুকুম পালনের গুরুত্ব এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সোনা-রূপা থাকলে তার যাকাতের হিসাব জানা দরকার।
  • যাকাত মালের পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত।
  • সম্পদ বেশি হলেও আল্লাহর হুকুম পালনের দায় থাকে।
  • জমা সম্পদকে যাকাতের বাইরে ভাবা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন