৪৪/৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০১২ - যাকাত না দেওয়া ও মিথ্যা শপথ

সূরা আলে ইমরান

যাকাত না দেওয়ার শাস্তি ও মিথ্যা শপথে সম্পদ আত্মসাৎ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০১২

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَامِعٍ، وَهُوَ ابْنُ أَبِي رَاشِدٍ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَعْيَنَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " مَا مِنْ رَجُلٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاةَ مَالِهِ إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي عُنُقِهِ شُجَاعًا " . ثُمَّ قَرَأَ عَلَيْنَا مِصْدَاقَهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : (وَلَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ) الآيَةَ. وَقَالَ مَرَّةً قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِصْدَاقَهُ : (سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ) " وَمَنِ اقْتَطَعَ مَالَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ بِيَمِينٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ " . ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِصْدَاقَهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ : (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ ) الآيَةَ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَمَعْنَى قَوْلِهِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَعْنِي حَيَّةً .

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেনঃ যে লোক তার সম্পদে যাকাত প্রদান করে না, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার (মালকে তার) ঘাড়ে বিষধর অজগর সাপরূপে স্থাপন করবেন।তারপর তিনি এই কথার সত্যতা প্রমাণে আল্লাহ তা’আলার কিতাবের এ আয়াত আমাদেরকে শুনান (অনুবাদ) : “তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নিজ অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। না, এটা তাদের পক্ষে অকল্যাণকর। যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলার বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য। তোমরা যা কর আল্লাহ তা’আলা তা বিশেষভাবে অবহিত” – (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১৮০)।বর্ণনাকারী কখনো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সমর্থনে এ আয়াতাংশ পাঠ করেন (অনুবাদ) : “যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি হবে”। তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে তার মুসলিম ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহ তা’আলার সাথে এরূপ অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট।এর সত্যতার সমর্থনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ তা’আলার কিতাবের এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) : “যারা আল্লাহ তা’আলার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহকে তুচ্ছমূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের জন্য কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি তাকাবেন, আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন। তাদের জন্য রয়েছে উৎপীড়ক শাস্তি” – (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৭৭)।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। “শুজা’আন আকরাআ” অর্থ সাপ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০১২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সম্পদের সঙ্গে জড়িত দুটি বড় অন্যায়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথমটি হলো, সম্পদের যাকাত না দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদ বিষধর অজগর সাপের রূপে তার ঘাড়ে রাখা হবে। এরপর সূরা আলে ইমরান ১৮০ নম্বর আয়াত পাঠ করে বিষয়টির সমর্থন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অন্যায় হলো মিথ্যা শপথের মাধ্যমে মুসলিম ভাইয়ের সম্পদ নিয়ে নেওয়া। এমন ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবেন। এর সমর্থনে সূরা আলে ইমরান ৭৭ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়। তাই যাকাত প্রদান, সত্য শপথ এবং অন্যের সম্পদের অধিকার রক্ষা—তিনটি বিষয়ই হাদিসটিতে কঠোরভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সম্পদের যাকাত না দেওয়া কিয়ামতের কঠিন শাস্তির কারণ।
  • মিথ্যা শপথ করে অন্যের সম্পদ নেওয়া গুরুতর অপরাধ।
  • মানুষের সম্পদের অধিকার নষ্ট করলে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মুখোমুখি হতে হয়।
  • সম্পদ পাওয়া যেমন নেয়ামত, তার নির্ধারিত হক আদায় করাও দায়িত্ব।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন