৮/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৯ - যাকাতই সম্পদের নির্ধারিত হক
যে মালের যাকাত আদায় করা হয় তা পুঞ্জীভূত সম্পদ নয়।
সম্পদের হক: যাকাত ছাড়া অন্য দাবি নেই—হাদিসের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৮৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৮৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنْهَا سَمِعَتْهُ تَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ لَيْسَ فِي الْمَالِ حَقٌّ سِوَى الزَّكَاةِ
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যাকাত ব্যতীত সম্পদের উপর অন্য কোন দাবী নেই।
[১৭৮৯] তিরমিযী ৬৫৯, ৬৬০, দারেমী ১৬৩৭, মিশকাত দ্বিতীয় তাহকীক ১৯১৪, যঈফাহ ৪৩৮৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ মুনকার। উক্ত হাদিসের রাবী আবু হামযাহ (মায়মুন) সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্যও নয় আবার দলীলযোগ্যও নয়। ইমাম বুখারী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম তিরমিযি বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহণ করা যায় তবে তিনি সিকাহ নন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৩৪৬, ২৬/২৩৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যাকাত ব্যতীত সম্পদের উপর অন্য কোনো দাবি নেই। হাদিসটির মূল কথা হলো, সম্পদের ওপর যে ফরজ ও নির্ধারিত হক আছে, তা হলো যাকাত। এখানে মালের হক, যাকাতের দায়িত্ব এবং ফরজ দাবির সীমা বোঝানো হয়েছে। কেউ যেন সম্পদের যাকাতকে ছোট মনে না করে, আবার যাকাতের বাইরে নিজের পক্ষ থেকে নতুন ফরজ দাবি বানিয়ে না ফেলে—এই ভারসাম্যও হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়। তবে এই হাদিস দান-সদকার ফজিলত অস্বীকার করছে না; বরং এখানে নির্দিষ্ট দাবির কথা বলা হয়েছে। তাই সহজভাবে বলা যায়, মালের যাকাত আদায় করা ফরজ দায়িত্ব, আর তার বাইরে নফল দান আলাদা ভালো কাজ হতে পারে—ইসলামী স্কলারদের মতে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মালের নির্ধারিত ফরজ হক হলো যাকাত।
- যাকাতের বাইরে নতুন ফরজ দাবি বানানো উচিত নয়।
- যাকাত আদায়ে অবহেলা করা যাবে না।
- নফল দান ও ফরজ যাকাতকে আলাদা করে বুঝতে হবে।
