৯/৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৬১ - কুমারী নারী বিবাহের উৎসাহ
কুমারী মহিলা বিবাহ করা।
কুমারী নারী বিবাহের হাদিস: সহজ ভাষায় শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৬১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৬১
- حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ التَّيْمِيُّ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَالِمِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ عُوَيْمِ بْنِ سَاعِدَةَ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَيْكُمْ بِالْأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهًا وَأَنْتَقُ أَرْحَامًا وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ
উতবাহ বিন উওয়ায়ম আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "তোমাদের কুমারী মেয়ে বিবাহ করা উচিত। কেননা তারা মিষ্টমুখী, নির্মল জরায়ুধারী এবং অল্পতেই তুষ্ট হয়। "
[১৮৬১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ৬২৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী১. মুহাম্মাদ বিন তালহাহ আত তায়মী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণ করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৩১২, ২৫/৪১৪ নং পৃষ্ঠা)২. আব্দুর রহমান বিন সালিম বিন উতবাহ বিন উওয়ায়ম বিন সাইদাহ আল-আনসারী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮২৩, ১৭/১২৭ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু মুহাম্মাদ বিন তালহাহ আত তায়মী ও আব্দুর রহমান বিন সালিম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৪৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৯ টি অধিক দুর্বল, ১৩ টি দুর্বল, ১০ টি হাসান, ১২ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১০৩৪১, ১০৩৪২, মু'জামুল আওসাত ৪৫৫, ৭৬৭৭, শারহুস সুন্নাহ ২২৪৬ ইত্যাদি।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুমারী নারী বিবাহের উৎসাহের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমাদের কুমারী মেয়ে বিবাহ করা উচিত। এরপর তিনটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে: তারা মিষ্টমুখী, নির্মল জরায়ুধারী এবং অল্পতেই তুষ্ট হয়। এখানে মূল আলোচনা হলো দাম্পত্য জীবনে কোমলতা, ঘনিষ্ঠতা এবং সহজ মনোভাবের গুরুত্ব। হাদিসটি কোনো অন্য নারীকে হেয় করার জন্য নয়; বরং বর্ণিত ভাষ্য অনুযায়ী কুমারী নারীর কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। বিবাহ একটি বড় সিদ্ধান্ত, তাই এতে দীন, চরিত্র, পারিবারিক মানানসই অবস্থা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াও গুরুত্বপূর্ণ। এই বর্ণনার শিক্ষাকে অতিরঞ্জন না করে বলা যায়, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) দাম্পত্য জীবনে মধুর আচরণ, সন্তানের আশা এবং অল্পে সন্তুষ্ট থাকার মতো গুণকে মূল্য দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য জীবনে কোমল কথা ও মিষ্টি আচরণের মূল্য আছে।
- বিবাহের আলোচনায় সন্তানের সম্ভাবনাকে একটি বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে।
- অল্পে সন্তুষ্ট থাকা দাম্পত্য শান্তির একটি ভালো গুণ।
- হাদিসের ভাষ্যকে সীমার মধ্যে বুঝতে হবে, অতিরঞ্জন করা উচিত নয়।
