৯/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৮২ - নারীর নিজে বিবাহ দেওয়ার বিধান
অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হয় না।
নারী নিজে বিবাহ দেবে না: ওয়ালীর গুরুত্ব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৮২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৮২
حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَتَكِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ الْعُقَيْلِيُّ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِيَ الَّتِي تُزَوِّجُ نَفْسَهَا
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলা অপর কোন মহিলাকে বিবাহ দিবে না এবং কোন মহিলা নিজেকেও বিবাহ দিবে না। কেননা যে নারী স্বউদ্যোগে বিবাহ করে সে যেনাকারিণী।
[১৮৮২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ১৮৪১। যইফ আল জামি' ৬২১৪, তাহকীক আলবানীঃ যেনার বাক্য ব্যতীত সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী১. জামীল ইবনুল হাসান আল-আতাকী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল জুরজানী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, আমরা তার সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম কিন্তু তার থেকে কোন হাদিস গ্রহণ করিনি। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মাসলামাহ ইবনু কাসিম বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৯৬৮, ৫/১২৮ নং পৃষ্ঠা)২. মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান আল-উকায়লী সম্পর্কে আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৯৫, ২৬/৩৮৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কোনো মহিলা অপর মহিলাকে বিবাহ দেবে না এবং কোনো মহিলা নিজেকেও বিবাহ দেবে না। বর্ণনাটির মূল বিষয় হলো বিবাহের প্রক্রিয়ায় ওয়ালী বা অভিভাবকের ভূমিকা। এখানে ভাষা কঠোর, তাই ব্যাখ্যার সময় বাড়তি কথা না যোগ করে শুধু এটুকু বলা নিরাপদ যে, স্বউদ্যোগে বিবাহ সম্পন্ন করার ব্যাপারে হাদিসে সতর্কতা এসেছে। “নারী নিজেকে বিয়ে দিতে পারবে কি”, “ওয়ালী ছাড়া বিয়ে” বা “ইসলামে বিবাহে অভিভাবক” খুঁজলে এই হাদিসটি গুরুত্বপূর্ণভাবে সামনে আসে। এটি বিবাহকে নিয়মের মধ্যে রাখার শিক্ষা দেয়। তাই হাদিসটি নারীর সম্মান কমানোর জন্য নয়; বরং বিবাহের শরয়ী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বের দিকটি বোঝানোর জন্য পড়তে হবে। এটিই মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো নারী অন্য নারীকে বিবাহ দেওয়ার দায়িত্ব নেবে না।
- নারী নিজেকেও বিবাহ দেওয়ার বিষয়ে হাদিসে নিষেধ এসেছে।
- বিবাহের প্রক্রিয়ায় অভিভাবকের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়েছে।
- বিবাহে নিজের ইচ্ছার সাথে শরয়ী নিয়মও মানতে হয়।
