৯/২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯০১ - তবলার আওয়াজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা
গান গাওয়া এবং ঢোল বাজানো।
তবলার আওয়াজ থেকে দূরে থাকা: ইবনু উমর (রাঃ)-এর অনুসরণীয় আচরণ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯০১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ التَّمِيمِيِّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَسَمِعَ صَوْتَ طَبْلٍ فَأَدْخَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ ثُمَّ تَنَحَّى حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ
মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু উমর (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ তিনি তবলার আওয়াজ শুনতে পান। তিনি তাঁর উভয় কানে তাঁর দু আঙ্গুল ঢুকিয়ে সরে পড়েন। তিনি তিনবার এরূপ করলেন। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
[১৯০১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। রওদুন নাদীর ৫৬৮। তাহকীক আলবানীঃ তবলার কথা মুনকার তবে রাখালের যামারাহ বাশীর শব্দে সহীহ, রওয ৫৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী লায়স সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু যুরআহ ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০১৭, ২৪/২৭৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ)-এর একটি সরাসরি আমল বর্ণিত হয়েছে। তিনি তবলার আওয়াজ শুনে নিজের দুই কানে আঙুল দেন এবং সরে যান। তিনি একবার নয়, তিনবার এমন করেন। এরপর বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এভাবে করেছেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, কোনো আওয়াজ বা পরিবেশ থেকে বাঁচতে চাইলে শুধু মুখে অপছন্দ বলা নয়, বরং বাস্তবে তা থেকে দূরে সরে যাওয়াও একটি পথ। এখানে তবলার আওয়াজ থেকে দূরে থাকা, নিজের কানকে তা থেকে বাঁচানো এবং নবীজির আমল অনুসরণ করার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা অনুচিত পরিবেশে জড়িয়ে না গিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া একটি সাবধানী আচরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপছন্দনীয় আওয়াজ শুনলে তা থেকে দূরে সরে যাওয়া যায়।
- নিজেকে রক্ষা করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহাবিরা নবীজির আমলকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করতেন।
- পরিবেশ খারাপ মনে হলে সেখানে থাকা জরুরি নয়।
