০/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৪ - আসমানের খবর ও গণকের মিথ্যা
জাহমিয়াহ্ সম্প্রদায় যা অমান্য করে
গণক ও যাদুকরের কথা: আসমানের খবর চুরি করে শোনার হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৪
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ ﷺ ـ قَالَ «إِذَا قَضَى اللَّهُ أَمْرًا فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتِ الْمَلاَئِكَةُ أَجْنِحَتَهَا خِضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَأَنَّهُ سِلْسِلَةٌ عَلَى صَفْوَانٍ فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ قَالَ فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ بَعْضُهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ فَيَسْمَعُ الْكَلِمَةَ فَيُلْقِيهَا إِلَى مَنْ تَحْتَهُ فَرُبَّمَا أَدْرَكَهُ الشِّهَابُ قَبْلَ أَنْ يُلْقِيَهَا إِلَى الَّذِي تَحْتَهُ فَيُلْقِيهَا عَلَى لِسَانِ الْكَاهِنِ أَوِ السَّاحِرِ فَرُبَّمَا لَمْ يُدْرَكْ حَتَّى يُلْقِيَهَا فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ فَتَصْدُقُ تِلْكَ الْكَلِمَةُ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা আসমানে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা জারী করলে মালায়িকাহ বিনয়াবনত হয়ে তাদের পাখাসমূহ দোলাতে থাকেন। ফলে তা থেকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জিরের আঘাতের আওয়াজের অনুরূপ আওয়াজ হতে থাকে।"অতঃপর তাদের অন্তরের ভীতিকর অবস্থা দূরীভূত হলে তারা পরস্পর জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বলেন, তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি সমুচ্চ মহান" - (সূরা সাবা ৩৪ : ২৩)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তাদের পারস্পরিক আলোচনা শয়তান ওৎ পেতে শোনে এবং ভূপৃষ্ঠে অবস্থানকারী তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের কাছে তা পৌঁছে দেয়। কখনো তা নিম্নে অবস্থানকারীদের কাছে পৌঁছানোর পূর্বে তাদের প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হয়। শ্রুত কথা তারা পৃথিবীতে এসে গণক বা যাদুকরের মুখে ঢেলে দেয়। আবার কখনো তারা কিছুই শুনতে পায় না, বরং (নিজেদের পক্ষ থেকে) তা গণক ও যাদুকরের মুখে তাদের কথার সাথে শত মিথ্যা যোগ করে ঢেলে দেয়। তাই কেবল সত্য সেটিই হয় যা তারা আসমান থেকে শোনে।
[১৯২] বুখারী ৪৭০১, ৪৮০০, ৭৪৮১; তিরমিযী ৩২২৩, আবূ দাঊদ ৩৯৮৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৩/২৮৩। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। ইমাম বুখারী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, কোন সমস্যা নেই।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আসমানের খবর, ফেরেশতা এবং গণকের মিথ্যা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আল্লাহ আসমানে কোনো সিদ্ধান্ত দিলে ফেরেশতারা বিনয়ে পাখা দোলাতে থাকে। এরপর তাদের ভয় দূর হলে তারা জিজ্ঞেস করে, তোমাদের রব কী বলেছেন? উত্তর আসে, তিনি সত্য বলেছেন, তিনি সমুচ্চ মহান। শয়তানরা ওৎ পেতে কিছু শুনতে চায় এবং নিচে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করে। কখনো উল্কাপিণ্ড তাদের আগে ধরে ফেলে, কখনো তারা একটি শোনা কথা গণক বা যাদুকরের কাছে পৌঁছে দেয়। তারপর তার সঙ্গে অনেক মিথ্যা মেশানো হয়। হাদিসটি শেখায়, গণক-যাদুকরের কথায় ভরসা করা বিপজ্জনক; সত্যের উৎস আল্লাহর বাণী ও রাসূলের শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে ফেরেশতারাও বিনয় প্রকাশ করেন।
- গণক ও যাদুকরের কথায় সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
- আল্লাহই সত্য বলেন এবং তাঁরই কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ।
