০/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৩ - সাত আসমান, আরশ ও আল্লাহর মহত্ত্ব
জাহমিয়াহ্ সম্প্রদায় যা অমান্য করে
সাত আসমান ও আরশ: আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করার হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمِيرَةَ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ،قَالَ كُنْتُ بِالْبَطْحَاءِ فِي عِصَابَةٍ وَفِيهِمْ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَمَرَّتْ بِهِ سَحَابَةٌ فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَقَالَ «مَا تُسَمُّونَ هَذِهِ» . قَالُوا السَّحَابُ . قَالَ «وَالْمُزْنُ» . قَالُوا وَالْمُزْنُ . قَالَ «وَالْعَنَانُ» . قَالَ أَبُو بَكْرٍ قَالُوا وَالْعَنَانُ . قَالَ «كَمْ تَرَوْنَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ السَّمَاءِ " . قَالُوا لاَ نَدْرِي . قَالَ " فَإِنَّ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهَا إِمَّا وَاحِدًا أَوِ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا وَسَبْعِينَ سَنَةً وَالسَّمَاءُ فَوْقَهَا كَذَلِكَ» . حَتَّى عَدَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ " ثُمَّ فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ بَحْرٌ بَيْنَ أَعْلاَهُ وَأَسْفَلِهِ كَمَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ فَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ بَيْنَ أَظْلاَفِهِنَّ وَرُكَبِهِنَّ كَمَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ عَلَى ظُهُورِهِنَّ الْعَرْشُ بَيْنَ أَعْلاَهُ وَأَسْفَلِهِ كَمَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ اللَّهُ فَوْقَ ذَلِكَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى» .
আব্বাস ইব্নু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বাতহা নামক স্থানে একদল লোকের সাথে ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাদের সাথে ছিলেন। তখন একখণ্ড মেঘ তাঁকে অতিক্রম করে। তিনি মেঘখণ্ডের দিকে তাকিয়ে বলেন, তোমরা এটাকে কী নামে অভিহিত করো? তারা বলেন, মেঘ। তিনি বলেন, এবং মুয্ন। তারা বলেন, মুয্নও বটে। তিনি বলেন, আনানও। আবু বাক্র (রাঃ) বলেন, তারা সবাই বললেন, আনানও বটে। তিনি বলেন, তোমাদের ও আসমানের মাঝে তোমরা কত দূরত্ব মনে করো? তারা বলেন, আমরা অবগত নই। তিনি বলেন, তোমাদের ও আসমানের মাঝে ৭১ বা ৭২ বা ৭৩ বছরের দূরত্ব রয়েছে। এক আসমান থেকে তার ঊর্ধ্বের আসমানের দূরত্বও তদ্রূপ। এভাবে তিনি সাত আসমানের সংখ্যা গণনা করেন।অতঃপর সপ্তম আকাশের উপর একটি সমুদ্র আছে যার শীর্ষভাগ ও নিম্নভাগের মধ্যকার ব্যবধান (গভীরতা) দু' আসমানের মধ্যকার দূরত্বের সমান। তার উপর রয়েছেন আটজন ফেরেশ্তা, যাদের পায়ের পাতা ও হাঁটুর মধ্যকার ব্যবধান দু' আসমানের মধ্যকার দূরত্বের সমান। তাদের পিঠের উপরে আল্লাহ্র আরশ অবস্থিত, যার উপর ও নিচের ব্যবধান (উচ্চতা) দু' আসমানের মধ্যকার দূরত্বের সমান। তার উপরে রয়েছেন বরকতময় মহান আল্লাহ্।
[১৯১] তিরমিযী ৩৩২০, আবূ দাঊদ ৪৭২৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ৪৭২৩ যঈফ, মিশকাত ৫৭২৬ যঈফ, যঈফা ১২৪৭, যিলালুল জান্নাহ ৫৭৭। উক্ত হাদিসের রাবী ওয়ালীদ বিন আবু সাওর আল হামদানী সম্পর্কে ইবনু নুমায়র বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন ও মুনকারুল হাদিস। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান ও সাকিহ জাযারাহ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার থেকে যাচাই করে হাদিস লিখা যায়।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সাত আসমান, আরশ ও আল্লাহর মহত্ত্ব। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একখণ্ড মেঘ দেখে সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, এটাকে তারা কী বলে। এরপর তিনি আসমান পর্যন্ত দূরত্বের কথা বলেন এবং এক আসমান থেকে আরেক আসমানের দূরত্বও তেমন বলে উল্লেখ করেন। তারপর সাত আসমান, সপ্তম আসমানের ওপর সমুদ্র, আটজন ফেরেশতা, তাদের পিঠের ওপর আরশ এবং তার ওপর বরকতময় মহান আল্লাহর কথা বর্ণনা করেন। এই হাদিসের বিষয় গায়েবের জগত; তাই হাদিসের বর্ণনার বাইরে বাড়তি কল্পনা করা উচিত নয়। মূল শিক্ষা হলো, সৃষ্টির বিশালতা আল্লাহর মহত্ত্বের সামনে আমাদের সীমাবদ্ধতা বুঝিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সৃষ্টির বিশালতা আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করায়।
- গায়েবের খবর হাদিসের সীমার মধ্যে বুঝতে হয়।
- আসমান ও আরশের বর্ণনা মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায়।
