৯৭/২২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: তখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল- (সূরা হূদ ১১/৭)। তিনি আরশে আজীমের প্রতিপালক- (সূরা আত-তাওবা ৯/১২৯)।
আবুল ‘আলীয়া (রহ.) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ এর অর্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন (সূরা আল-আ‘রাফ ৭/৫৪)। فَسَوَّاهُنَّ এর অর্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ এর অর্থ হলো আরশের ওপর সমুন্নত হলেন (সূরা আল-আ‘রাফ ৭/৫৪)। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مَجِيد অর্থ সম্মানিত, الْوَدُودُ অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٌ থেকে فَعِيلٌ এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُودٌ (প্রশংসনীয়) এসেছে حَمِدَ থেকে।
সহিহ বুখারী : ৭৪২৩
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৪২৩
إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي هِلاَلٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَفَلاَ نُنَبِّئُ النَّاسَ بِذَلِكَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِهِ كُلُّ دَرَجَتَيْنِ مَا بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়িম করে, রমজান মাসের সাওম পালন করে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে এ দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করুক কিংবা তার জন্মভূমিতে অবস্থান করুক।সাহাবীগণ বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়টি আমরা লোকদের জানিয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়, জান্নাতের একশটি (মর্যাদার) স্তর রয়েছে। এগুলো আল্লাহ তাঁর রাস্তায় জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতি দুটি স্তরের মাঝে আসমান ও যমীনের দূরত্ব বিদ্যমান। কাজেই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাউস জান্নাত চাইবে। কারণ, সেটি হচ্ছে সবচেয়ে প্রশস্ত ও সবচেয়ে উচ্চ জান্নাত। আর দয়ালু (আল্লাহর) আরশটি এরই ওপর অবস্থিত। এই ফিরদাউস থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাগুলো প্রবাহিত।
(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৮)[২১৩] আল্লাহর একটি সিফাত علوه অর্থাৎ উর্দ্ধে বা উঁচুতে অবস্থান। তিনি তার স্বীয় সত্তায় আরশের উপরে রয়েছেন, কীভাবে রয়েছেন তা কেউ জানে না। তবে এতটুকুই যথেষ্ট যে, আরশের উপর যেমনভাবে তার জন্য মানানসই সেভাবেই রয়েছেন। আর আরশের অবস্থান আল্লাহর সকল মাখলূকাতের উর্দ্ধে, তার উপর আল্লাহ। আল্লাহর উপরে আর কোন কিছুই নেই। আর যেহেতু আল্লাহ স্বীয় সত্তায় আরশের উপরে সুতরাং আল্লাহ সব জায়গায় বিরাজমান এ কথা ভ্রান্ত। সহীহ আক্বীদাহর পরিপন্থী। স্বীয় সত্তায় তিনি আরশের উপরে হলেও তার ইলম, সাহায্য, দর্শন ইত্যাদি সবজায়গায় পরিব্যাপ্ত। কোন কিছুই তার দৃষ্টির বাইরে নয়, এমনকি তিনি অন্তর্যামী عليم بذات الصدور।আল্লাহ যে আরশের উপরে তার প্রমাণ অত্র হাদীস ছাড়াও আল্লাহ তা‘আলার বাণী :الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (৫) سورة طـه
