৯/৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৮০ - সাফিয়া (রাঃ)-কে দেখা ও পারিবারিক আচরণের শিক্ষা
স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ করা।
সাফিয়া (রাঃ)-এর ঘটনা: দাম্পত্য জীবনের মানবিক অনুভূতি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৮০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৮০
حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أُمِّ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْمَدِينَةَ وَهُوَ عَرُوسٌ بِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ جِئْنَ نِسَاءُ الْأَنْصَارِ فَأَخْبَرْنَ عَنْهَا قَالَتْ فَتَنَكَّرْتُ وَتَنَقَّبْتُ فَذَهَبْتُ فَنَظَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى عَيْنِي فَعَرَفَنِي قَالَتْ فَالْتَفَتَ فَأَسْرَعْتُ الْمَشْيَ فَأَدْرَكَنِي فَاحْتَضَنَنِي فَقَالَ كَيْفَ رَأَيْتِ قَالَتْ قُلْتُ أَرْسِلْ يَهُودِيَّةٌ وَسْطَ يَهُودِيَّاتٍ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যা (রাঃ)-কে বিবাহ করে মদিনায় নিয়ে এলে আনসারী মহিলাগণ এসে তাঁর ব্যাপারে (আমাকে) অবহিত করে। বলেন, আমি বেশভূষা পরিবর্তন করে এবং মুখমণ্ডল আবৃত করে তাঁকে দেখতে গেলাম। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমাকে চিনে ফেলেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার দিকে লক্ষ্য করলে আমি দ্রুত সরে যেতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনি আমাকে ধরে ফেলে কোলে তুলে নেন এবং বলেনঃ কেমন দেখলে? আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে দিন, ইয়াহূদী নারীদের মধ্যকার এক ইয়াহূদিনী।
[১৯৮০] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তা’লীক ইবনু মাজাহ্। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী১. মুবারাক বিন ফাদালাহ সম্পর্কে আবু বাকার আল-বাযযার বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন দোষ নেই। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক তাদলীস করেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৬৬, ২৭/১৮০ নং পৃষ্ঠা)২. আলী বিন যায়দ বিন জুদআন সম্পর্কে ইয়াহিয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহিয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ সালিহ। আল আজালী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪০৭০, ২০/৪৩৪ নং পৃষ্ঠা)৩. উম্মু মুহাম্মাদ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি বলেন, তার হাদিস হাসান। ইমাম যাহাবী ও ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন তিনি মাজহুল বা অপরিচিত।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর একটি ঘরোয়া ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাফিয়া (রাঃ)-কে বিবাহ করে মদিনায় আনলে আনসারী নারীরা আয়িশা (রাঃ)-কে তাঁর খবর জানান। এরপর আয়িশা (রাঃ) নিজের বেশভূষা বদলে মুখ ঢেকে তাঁকে দেখতে যান। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর চোখ দেখে তাঁকে চিনে ফেলেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নবীজির ঘরোয়া জীবনেও স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি ছিল। আয়িশা (রাঃ)-এর কৌতূহল, নিজেকে আড়াল করা, আর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর তাঁকে চিনে ফেলা—সব মিলিয়ে এটি পারিবারিক জীবনের এক বাস্তব ছবি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দাম্পত্য সম্পর্কে অনুভূতি, কথাবার্তা ও আচরণ—সবই সংবেদনশীলভাবে বুঝতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি থাকতে পারে।
- ঘরের ভেতরের ঘটনায় কোমল আচরণ ও বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ।
- কৌতূহল বা অনুভূতি প্রকাশের সময় কথার ভঙ্গি সুন্দর রাখা দরকার।
