১০/১২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৩৮ - তালাক অস্বীকারে সাক্ষী ও শপথ
স্বামী তালাক অস্বীকার করলে।
স্বামী তালাক অস্বীকার করলে: সাক্ষী ও শপথের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৩৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৩৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ أَبُو حَفْصٍ التَّنِّيسِيُّ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا ادَّعَتْ الْمَرْأَةُ طَلَاقَ زَوْجِهَا فَجَاءَتْ عَلَى ذَلِكَ بِشَاهِدٍ عَدْلٍ اسْتُحْلِفَ زَوْجُهَا فَإِنْ حَلَفَ بَطَلَتْ شَهَادَةُ الشَّاهِدِ وَإِنْ نَكَلَ فَنُكُولُهُ بِمَنْزِلَةِ شَاهِدٍ آخَرَ وَجَازَ طَلَاقُه
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
স্ত্রী তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে বলে দাবি করলে এবং এর স্বপক্ষে একজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী উপস্থিত করলে তার স্বামীকে শপথ করানো হবে। সে শপথ করলে সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে। আর সে (স্বামী) শপথ করতে অস্বীকৃত হলে তার এ অস্বীকৃতি আরেকজন সাক্ষী স্থানীয় গণ্য হবে এবং তার তালাক কার্যকর হবে।
[২০৩৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৭/৩১৯, যঈফাহ ২২১০। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আমর বিন আবু সালামাহ সম্পর্কে আবু জা'ফার আল-উকায়লী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহণ করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৩৭৮, ২২/৫১ নং পৃষ্ঠা)২. যুহায়র সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু আবদুল বার আল-আন্দালাসী বলেন, তিনি সকলের নিকট দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০১৭, ৯/৪১৪ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে স্বামী তালাক অস্বীকার করলে কীভাবে বিষয়টি যাচাই হবে—তার একটি বর্ণনা এসেছে। স্ত্রী যদি দাবি করে যে স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে এবং সে একজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী হাজির করে, তাহলে স্বামীকে শপথ করানো হবে। স্বামী শপথ করলে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল হবে। আর স্বামী শপথ করতে অস্বীকার করলে তার অস্বীকৃতি আরেকজন সাক্ষীর মতো গণ্য হবে এবং তালাক কার্যকর হবে। হাদিসটি বিচার, সাক্ষ্য, শপথ এবং পারিবারিক দাবির গুরুতরতা বোঝায়। তবে এই হাদিসের মান নিয়ে আলেমদের আলোচনাও আছে, তাই প্রয়োগের ক্ষেত্রে জ্ঞানী স্কলারের কাছে যাওয়াই নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকের দাবি প্রমাণে সাক্ষীর বিষয় এসেছে।
- স্বামী অস্বীকার করলে শপথের প্রসঙ্গ এসেছে।
- পারিবারিক বিরোধে প্রমাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধান জরুরি।
