১০/২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৬৩ - খাওলা (রাঃ)-এর অভিযোগ ও আল্লাহর শ্রবণ
যিহার প্রসঙ্গে।
খাওলা (রাঃ)-এর অভিযোগ: আল্লাহ বান্দার ফরিয়াদ শুনেন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৬৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৬৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ تَبَارَكَ الَّذِي وَسِعَ سَمْعُهُ كُلَّ شَيْءٍ إِنِّي لَأَسْمَعُ كَلَامَ خَوْلَةَ بِنْتِ ثَعْلَبَةَ وَيَخْفَى عَلَيَّ بَعْضُهُ وَهِيَ تَشْتَكِي زَوْجَهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَهِيَ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللهِ أَكَلَ شَبَابِي وَنَثَرْتُ لَهُ بَطْنِي حَتَّى إِذَا كَبِرَتْ سِنِّي وَانْقَطَعَ وَلَدِي ظَاهَرَ مِنِّي اللّٰهُمَّ إِنِّي أَشْكُو إِلَيْكَ فَمَا بَرِحَتْ حَتَّى نَزَلَ جِبْرَائِيلُ بِهَؤُلَاءِ الْآيَاتِ ﴾قَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللهِ﴿
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বরকতময় সেই সত্তা যার শ্রবণশক্তি সব কিছুতে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। আমি সা’লাবার কন্যা খাওলা (রাঃ) এর কিছু কথা শুনলাম এবং কিছু কথা আমার অজ্ঞাত থেকে যায়। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে আমার যৌবন উপভোগ করেছে এবং আমি আমার পেট থেকে তাকে অনেক সন্তান উপহার দিয়েছি। অবশেষে আমি যখন বার্ধক্যে উপনীত হলাম এবং সন্তানদানে অক্ষম হলাম, তখন সে আমার সাথে যিহার করেছে। হে আল্লাহ্! আমি তোমার দরবারে আমার অভিযোগ পেশ করছি।অতঃপর বেশি সময় অতিবাহিত না হতেই জিবরাঈল (আঃ) এ আয়াতগুলো নিয়ে অবতরণ করলেন (অনুবাদ)ঃ “আল্লাহ্ অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে নিজের স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ করছে...” (সূরা মজাদালাহঃ ১)
[২০৬৩] ইবনু মাজাহ ১৮৮, নাসায়ী ৩৪৬০, ইরওয়াহ ৭/১৭৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) আল্লাহর শ্রবণশক্তির বিস্তৃতি নিয়ে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, খাওলা বিনতে সালাবা (রাঃ)-এর কিছু কথা তিনি শুনতে পান, আবার কিছু কথা তাঁর অজানা থাকে। খাওলা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্যে জীবনের দীর্ঘ সঙ্গ, সন্তান জন্মদান, বার্ধক্য এবং স্বামীর যিহারের কষ্ট ফুটে ওঠে। তিনি আল্লাহর দরবারে অভিযোগ পেশ করেন। এরপর জিবরাঈল (আঃ) সূরা মুজাদালাহর আয়াত নিয়ে অবতরণ করেন, যেখানে বলা হয়েছে আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে স্বামীর বিষয়ে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে। হাদিসটি যিহারের ঘটনা ও আল্লাহর কাছে ফরিয়াদের গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ বান্দার নীরব কষ্ট ও ফরিয়াদও শুনেন।
- দাম্পত্য অন্যায়ের বিষয়ে ন্যায়সম্মত অভিযোগ করা যায়।
- খাওলা (রাঃ)-এর ঘটনা যিহারের বিধান বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
- কষ্টের সময় আল্লাহর দরবারে অভিযোগ পেশ করা ঈমানের অংশ হতে পারে।
