১০/২৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৭৫ - মুগীসের ভালোবাসা ও বারীরার সিদ্ধান্ত
দাসী দাসত্বমুক্ত হওয়ার সাথে সাথে বিবাহ রদের এখতিয়ার লাভ করে।
বারীরা ও মুগীস: ভালোবাসা, সুপারিশ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৭৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৭৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى وَمُحَمَّدُ بْنُ خَلَّادٍ الْبَاهِلِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ زَوْجُ بَرِيرَةَ عَبْدًا يُقَالُ لَهُ مُغِيثٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ يَطُوفُ خَلْفَهَا وَيَبْكِي وَدُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى خَدِّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِلْعَبَّاسِ يَا عَبَّاسُ أَلَا تَعْجَبُ مِنْ حُبِّ مُغِيثٍ بَرِيرَةَ وَمِنْ بُغْضِ بَرِيرَةَ مُغِيثًا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ لَوْ رَاجَعْتِيهِ فَإِنَّهُ أَبُو وَلَدِكِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ تَأْمُرُنِي قَالَ إِنَّمَا أَشْفَعُ قَالَتْ لَا حَاجَةَ لِي فِيهِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরার স্বামী মুগীস ছিল ক্রীতদাস। আমি যেন তাকে দেখছি যে, সে বারীরার পিছে ছুটছে আর কাঁদছে এবং তার অশ্রু তার গাল বেয়ে পড়ছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্বাস (রাঃ) কে বলেনঃ হে আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীছের ভালবাসা এবং মুগীছের প্রতি বারীরার ঘৃণাতে কি আপনি আশ্চার্যান্বিত হচ্ছেন না! নবী (ﷺ) বারীরাকে বললেনঃ তুমি যদি তার কাছে ফিরে যেতে। কেননা সে তোমার সন্তানের পিতা। সে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি আমাকে নির্দেশ করছেন? তিনি বলেনঃ আমি কেবল সুপারিশ করছি। সে বলল, তাকে আমার প্রয়োজন নাই।
[২০৭৫] সহীহুল বুখারী ৫২৮০, ৫২৮১, ৫২৮২, ৫২৮৩, তিরমিযী ১১৫৬, নাসায়ী ৫৪১৭, আবূ দাউদ ২২৩১, ২২৩২, আহমাদ ১৮৪৭, ২৫৩৮, ৩৩৯৫, দারেমী ২২৯২, সহীহ আবী দউদ ১৯৩৩-১৯৩৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা ও তাঁর স্বামী মুগীসের হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা এসেছে। মুগীস ক্রীতদাস ছিলেন। তিনি বারীরার পেছনে কাঁদতে কাঁদতে চলতেন, আর তাঁর চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ত। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন, বারীরার প্রতি মুগীসের ভালোবাসা এবং মুগীসের প্রতি বারীরার অনাগ্রহ কি আশ্চর্যের নয়? তারপর নবী صلى الله عليه وسلم বারীরাকে বলেন, তুমি যদি তার কাছে ফিরে যেতে, সে তো তোমার সন্তানের পিতা। বারীরা (রাঃ) জানতে চান, এটি কি নির্দেশ? নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, আমি শুধু সুপারিশ করছি। তখন বারীরা বলেন, তার প্রয়োজন আমার নেই। হাদিসটি দেখায়, সুপারিশ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশ এক জিনিস নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও ভালোবাসা থাকলেও অন্য পক্ষকে বাধ্য করা হয়নি।
- নবী صلى الله عليه وسلم সুপারিশ ও নির্দেশের পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
- বারীরা নিজের বৈবাহিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ব্যবহার করেছেন।
- দাম্পত্য বিষয়ে আবেগের পাশাপাশি সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ।
