১২/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৪৯ - নবীদের শ্রম ও ছাগল চরানোর শিক্ষা
কারিগরি শিল্প প্রসঙ্গে।
শ্রমের মর্যাদা: নবীরাও জীবিকার কাজে যুক্ত ছিলেন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১৪৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২১৪৯
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقُرَشِيُّ، عَنْ جَدِّهِ، سَعِيدِ بْنِ أَبِي أُحَيْحَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلاَّ رَاعِيَ غَنَمٍ " . قَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " وَأَنَا كُنْتُ أَرْعَاهَا لأَهْلِ مَكَّةَ بِالْقَرَارِيطِ " . قَالَ سُوَيْدٌ يَعْنِي كُلُّ شَاةٍ بِقِيرَاطٍ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোন নবী পাঠাননি যিনি ছাগল চরাননি। সাহাবীগণ তাঁকে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনিও? তিনি (ﷺ) বলেন, আমিও। কয়েক কীরাতের বিনিময়ে আমি মক্কাবাসীদের ছাগল চরিয়েছি। সুওয়য়াদ (রহঃ) বলেন প্রতিটি বকরী এক কীরাতের বিনিময়ে।
[২১৪৯] সহীহুল বুখারী ২২৬২, বায়হাকী ১০/৪১২, গায়াতুল মারাম ১৬১, তাখরীজু ফিকহুস সিরাহ ৭০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি ছাগল চরাননি। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, তিনিও কয়েক কীরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরিয়েছেন। হাদিসটি শ্রমের মর্যাদা খুব সহজভাবে তুলে ধরে। জীবিকার জন্য কাজ করা লজ্জার নয়; বরং নবীদের জীবনেও শ্রমের উদাহরণ আছে। ছাগল চরানো সাধারণ কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজের জীবনের এ কথা বলেছেন। এতে শেখা যায়, হালাল উপার্জন ও পরিশ্রম সম্মানের বিষয়। কোনো কাজ ছোট মনে করে অহংকার করা ঠিক নয়, যদি তা বৈধ ও সৎ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবিকার জন্য পরিশ্রম করা সম্মানের কাজ।
- নবীদের জীবনেও সাধারণ শ্রমের উদাহরণ আছে।
- হালাল কাজকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
- উপার্জনে বিনয় ও পরিশ্রম মুমিনের চরিত্রের অংশ।
