১৩/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১১ - বিচারকের কিয়ামতের জবাবদিহি
জুলুম ও উৎকোচ সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি
বিচারকের জবাবদিহি: কিয়ামতের ভয়াবহ সতর্কবার্তা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩১১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩১১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا مِنْ حَاكِمٍ يَحْكُمُ بَيْنَ النَّاسِ إِلاَّ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَلَكٌ آخِذٌ بِقَفَاهُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَإِنْ قَالَ أَلْقِهِ أَلْقَاهُ فِي مَهْوَاةٍ أَرْبَعِينَ خَرِيفًا».
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে বিচারকই মানুষের বিচার করে, সে কেয়ামতের দিন এমন অবস্থায় হাজির হবে যে, একজন ফেরেশতা তার ঘাড় ধরে থাকবেন। অতঃপর সে আকাশের দিকে মাথা তুলবে। আল্লাহ যদি বলেন, তাকে নিক্ষেপ করো, তবে সেই ফেরেশতা তাকে একটি গর্তে নিক্ষেপ করবেন, যার মধ্যে সে চল্লিশ বছর ধরে গড়িয়ে পড়তে থাকবে।
[২৩১১] আহমাদ ৪০৮৬, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১৩৩, মিশকাত ৩৭৩৯, যইফ আল-জামি' ৫১৬৬। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুজালিদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি যইফ বা দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৮০, ২৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মানুষের বিচারকারী ব্যক্তির কিয়ামতের দিনের কঠিন অবস্থার কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে বিচারক মানুষের বিচার করে, কিয়ামতের দিন একজন ফেরেশতা তার ঘাড় ধরে থাকবে। এরপর সে আকাশের দিকে মাথা তুলবে। আল্লাহ যদি তাকে নিক্ষেপ করতে বলেন, ফেরেশতা তাকে এমন গর্তে ফেলবেন যেখানে সে চল্লিশ বছর ধরে গড়াতে থাকবে। হাদিসের ভাষা ভয় জাগানোর মতো। এর মূল শিক্ষা হলো বিচার কাজকে হালকা মনে না করা। মানুষের হক নিয়ে রায় দেওয়া বড় দায়। তাই বিচারকের জন্য ন্যায়, ভয় এবং সতর্কতা প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের বিচার করা কিয়ামতের জবাবদিহির সঙ্গে যুক্ত।
- বিচারকের জন্য দায়িত্বকে হালকা মনে করা ঠিক নয়।
- রায়ের আগে ন্যায় ও আল্লাহভীতি মনে রাখা দরকার।
