১৩/৩৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৭৪ - আহলে কিতাবের সাক্ষ্যদান
আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের পরস্পরের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্যদান।
আহলে কিতাবের পারস্পরিক সাক্ষ্যদানের অনুমোদন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৭৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩৭৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَجَازَ شَهَادَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের পরস্পরের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন।
[২৩৭৪] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৬/১৭৫, ইরওয়া ২৬৬৮। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদীসের রাবী১. আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোনো সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদীস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা)২. মুজালিদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি যইফ বা দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৮০, ২৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের পরস্পরের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত, তাই এর বাইরে বাড়তি শর্ত বা বিস্তারিত বিধান যোগ করা ঠিক নয়। এখানে মূল বিষয় হলো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সাক্ষ্যদানের অনুমোদন। বিচারব্যবস্থায় সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়টি সব সময় প্রেক্ষিত, পক্ষ ও দাবির সঙ্গে যুক্ত থাকে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সাক্ষ্য শুধু নিজের লোক বা পরিচিত মানুষের বিষয় নয়; যেখানে বিচার ও অধিকার আছে, সেখানে সাক্ষ্যের নিয়মও গুরুত্ব পায়। ইসলামী স্কলারদের মতে, বিচারক পরিস্থিতি ও গ্রহণযোগ্যতার দিকগুলো বিবেচনা করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আহলে কিতাবের পরস্পরের সাক্ষ্যদানের অনুমোদনের বর্ণনা এসেছে।
- সাক্ষ্য গ্রহণ বিচারিক বিষয়, তাই সতর্কতা দরকার।
- মানুষের অধিকার জড়িত হলে প্রমাণের গুরুত্ব থাকে।
