১৩/৩২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৭৩ - মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার শাস্তির সতর্কতা
মিথ্যা সাক্ষ্য প্রসঙ্গে।
মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার পরিণতি ও সত্য বলার দায়িত্ব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৭৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩৭৩
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُرَاتِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَنْ تَزُولَ قَدَمُ شَاهِدِ الزُّورِ حَتَّى يُوجِبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা জাহান্নামের ফয়সালা না দেয়া পর্যন্ত সে তার পদদ্বয় একটুও নাড়াতে পারবে না।
[২৩৭৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ১২৫৯। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদীসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল ফুরাত সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু বাকর বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। আবু মুহাম্মাদ বিন হাযম বলেন, তিনি সকলের ঐক্যমতে দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪০, ২৬/২৬৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের ফয়সালা না দেওয়া পর্যন্ত সে তার পদদ্বয় নাড়াতে পারবে না। এটি মিথ্যা সাক্ষ্যের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট সতর্কতা। সাক্ষ্য আদালত, মীমাংসা ও মানুষের অধিকার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। কেউ যদি জেনে শুনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার কথার কারণে অন্যায় ফয়সালা হতে পারে। তাই হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাক্ষ্য দেওয়া একটি বড় আমানত। সত্য জানা থাকলে সত্য বলা দরকার, আর সত্য না জানলে চুপ থাকা নিরাপদ। মানুষের হক নষ্ট করে এমন কথা বলা থেকে দূরে থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা সাক্ষ্যের পরিণতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- সাক্ষ্য মানুষের হক নষ্ট বা রক্ষা করতে পারে।
- যা জানা নেই, সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত নয়।
