১৪/৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৮২ - রুকবা দানের মালিকানা
রুকবা
রুকবা দান: জীবদ্দশা ও মৃত্যুর পর মালিকানা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৮২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩৮২
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ رُقْبَى فَمَنْ أُرْقِبَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ حَيَاتَهُ وَمَمَاتَهُ " . قَالَ وَالرُّقْبَى أَنْ يَقُولَ هُوَ لِلآخَرِ مِنِّي وَمِنْكَ مَوْتًا.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রুকবা বলতে কিছু নেই। তবে কারো অনুকূলে কিছু রুকবা (এক প্রকার দান) করা হলে তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরও সে তার মালিক হবে। রাবী বলেন, রুকবা এই যে, দানকারী বললো, “আমার ও তোমার মধ্যে যে শেষে মরবে এটা তার। ”
[২৩৮২] নাসায়ী ৩৭৩২, ইরওয়া ৬/৫৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রুকবা নামে এক ধরনের দানের কথা এসেছে। রাবীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রুকবা হলো এমন কথা বলা—“আমার ও তোমার মধ্যে যে শেষে মরবে, এটা তার।” রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, রুকবা বলতে কিছু নেই; তবে কারো পক্ষে কিছু রুকবা করা হলে তা তারই হবে, তার জীবদ্দশায়ও এবং মৃত্যুর পরও। এখানে দানের শর্তকে এমনভাবে দেখা হয়েছে যে, গ্রহীতার মালিকানা স্থির হয়ে যায়। তাই “কে আগে মরবে” ধরনের শর্ত দিয়ে দানকে ঝুলিয়ে রাখা হাদিসের ভাষায় গ্রহণযোগ্যভাবে মালিকানা বদলানোর পথ নয়। সহজভাবে বললে, কাউকে রুকবা হিসেবে কিছু দেওয়া হলে সেটি গ্রহীতার মালিকানা হিসেবে ধরা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকবা দানের ক্ষেত্রে গ্রহীতার মালিকানা সাব্যস্ত হয়।
- মৃত্যুকে শর্ত বানিয়ে সম্পদের মালিকানা ঝুলিয়ে রাখা ঠিক নয়।
- দান করার সময় অস্পষ্ট শর্ত এড়ানো দরকার।
- দান গ্রহীতার জীবদ্দশা ও মৃত্যুর পরও প্রভাব রাখে।
