১৫/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪০৭ - ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তি ও জামিন
যামিন হওয়া (কাফালাহ)
ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির জানাজা ও জামিনের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪০৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪০৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهَا فَقَالَ " صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ فَإِنَّ عَلَيْهِ دَيْنًا». فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ أَنَا أَتَكَفَّلُ بِهِ . قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «بِالْوَفَاءِ». قَالَ بِالْوَفَاءِ . وَكَانَ الَّذِي عَلَيْهِ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ أَوْ تِسْعَةَ عَشَرَ دِرْهَمًا.
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জানাযার নামাজ পড়ার জন্য একটি লাশ নবী (ﷺ) এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার নামাজ পড়ো। কেননা সে ঋণগ্রস্ত। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, আমি তার ঋণের যামিন হচ্ছি। নবী (ﷺ) বলেনঃ পরিশোধ করার জন্য তো? তিনি বলেন, পরিশোধ করার জন্য। তার ঋণের পরিমাণ ছিলো আঠার বা উনিশ দিরহাম।
[২৪০৭] তিরমিযী ১০৬৯, নাসায়ী ১৯৬০, ৪৬৯২, আহমাদ ২২০৮০, ২২১৫০, দারেমী ২৫৯৩, আল-আহকাম ৮৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জানাযার জন্য একটি লাশ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনা হয়। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার নামাজ পড়ো, কারণ সে ঋণগ্রস্ত। তখন আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, তিনি তার ঋণের জামিন হচ্ছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) নিশ্চিত করলেন—এটি কি পরিশোধ করার জন্য? তিনি বললেন, হ্যাঁ, পরিশোধ করার জন্য। ঋণের পরিমাণ ছিল আঠারো বা উনিশ দিরহাম। এই ঘটনা দেখায়, ঋণ মৃত্যুর পরও গুরুত্ব রাখে। একই সঙ্গে জামিন কেবল মুখের কথা নয়; তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জড়িত। “ঋণগ্রস্তের জানাজা”, “জামিনদার” ও “ঋণ পরিশোধ” এই হাদিসের কেন্দ্রীয় বিষয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক লেনদেনে কথা পরিষ্কার রাখা, হিসাব লিখে রাখা এবং অন্যের হককে সম্মান করা এই শিক্ষার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ মৃত্যুর পরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকে।
- জামিন তখনই অর্থপূর্ণ, যখন তা পরিশোধের দায়িত্ব নিয়ে হয়।
- সাহাবিরা অন্যের দায় মেটাতে সাহায্য করার সুন্দর দৃষ্টান্ত রেখেছেন।
