১৫/১৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪২৮ - পাওনা আদায়ে দেনাদারের পিছু লেগে থাকা
দেনার কারণে আটক করা এবং পেছনে লেগে থাকা।
দেনাদারের সঙ্গে থাকা ও পাওনা আদায়ের পদ্ধতি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪২৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪২৮
حَدَّثَنَا هَدِيَّةُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْهِرْمَاسُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ بِغَرِيمٍ لِي فَقَالَ لِي «الْزَمْهُ». ثُمَّ مَرَّ بِي آخِرَ النَّهَارِ فَقَالَ «مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ يَا أَخَا بَنِي تَمِيمٍ».
সা’লাবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আমার এক দেনাদারকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম। তিনি বলেনঃ এর পিছে লেগে থাকো। অতঃপর দিনের শেষে তিনি আমার নিকট নিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ হে তামীম গোত্রের ভাই! তোমার কয়েদী কি করেছে?
[২৪২৮] আবূ দাউদ ৩৬২৯। তা'লীক আলা ইবনু মাজাহ। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী১. হাদিয়্যাহ বিন আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনু আবু আসিম বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৫৪, ৩০/১৫৮ নং পৃষ্ঠা)২. হিরমাস বিন হাবীব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি একজন গ্রাম্যলোক তার থেকে নাদর ব্যতীত কেউ হাদিস বর্ণনা করেনি। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তাকে চিনি না। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৫৮, ৩০/১৬২ নং পৃষ্ঠা)৩. হাবীব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে জানা যায় না। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১১০৬, ৫/৪১০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি তার দেনাদারকে নিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, তার পিছে লেগে থাকো। পরে দিনের শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমার কয়েদী কী করেছে? এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় পাওনা আদায়ের একটি বাস্তব দিক দেখা যায়। পাওনাদার তার হক আদায়ের জন্য দেনাদারকে অনুসরণ করতে পারে, বিশেষ করে যখন পাওনা আটকে থাকে। তবে একই অধ্যায়ের অন্য বর্ণনাগুলো দেখায়, এই দাবি যেন ন্যায়সঙ্গত ও সীমার মধ্যে থাকে। হাদিসটি ঋণগ্রহীতাকে সতর্ক করে যে, দেনা অবহেলা করার বিষয় নয়। আর পাওনাদারকে বুঝায়, হক আদায়ে বৈধভাবে চেষ্টা করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাওনা আদায়ে বৈধ চেষ্টা করা যেতে পারে।
- দেনাদারকে নিজের দায় এড়িয়ে চলা উচিত নয়।
- ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব অবহেলা করলে তাগাদা বাড়তে পারে।
- হক আদায়ে ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি বজায় রাখা দরকার।
