১৯/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫২১ - বারীরা রাঃ, ওয়ালা ও অবৈধ শর্ত
মুকাতাব (চুক্তিবদ্ধ দাস) সম্পর্কে।
বারীরা রাঃ-এর ঘটনা: ওয়ালা অধিকার ও শর্তের সঠিক শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫২১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫২১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّ بَرِيرَةَ أَتَتْهَا وَهِيَ مُكَاتَبَةٌ قَدْ كَاتَبَهَا أَهْلُهَا عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فَقَالَتْ لَهَا إِنْ شَاءَ أَهْلُكِ عَدَدْتُ لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَكَانَ الْوَلاَءُ لِي قَالَ فَأَتَتْ أَهْلَهَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُمْ فَأَبَوْا إِلاَّ أَنْ تَشْتَرِطَ الْوَلاَءَ لَهُمْ فَذَكَرَتْ عَائِشَةُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ «افْعَلِي» . قَالَتْ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ «مَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ كِتَابُ اللَّهِ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ وَالْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরা (রাঃ) তার নিকট এলেন, তিনি ছিলেন মুকাতাবা। তিনি তার মালিকের সাথে নয় উকিয়া পরিশোধে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেন, তোমার মালিক চাইলে আমি এককালীন তাঁদেরকে তা পরিশোধ করে দিতে পারি এই শর্তে যে, ওয়ালার মালিক হবো আমি। রাবী বলেন, বারীরা তার মালিকের নিকট এসে একথা জানালে তারা এতে অসম্মতি জানায় এবং ওয়ালার মালিকানা তাঁদের থাকার শর্ত আরোপ করে। আয়িশাহ (রাঃ) বিষয়টি নবী (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন: তুমি তাকে ক্রয় করো।রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করেন, তারপর বলেন: লোকদের কী হলো যে, তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নাই। যেসব শর্ত আল্লাহর কিতাবে নাই তা বাতিল, যদিও তা সংখ্যায় একশত হয়। আল্লাহর কিতাবই যথার্থ এবং আল্লাহর শর্তই অধিক মজবুত। ওয়ালার মালিক হবে আযাদকারী।
[২৫২১] ইবনু মাজাহ ২০৭৪, ২০৭৬, সহীহুল বুখারী ৪৫৬, ১৪৯৩, ২১৫৫, ২১৫৬, ২১৬৮, ২১৬৯, ২৫৩৬, ২৫৬১, ২৫৬৩, ২৫৬৪, ২৫৬৫, ২৫৭৮, ২৭১৭, ২৭২৬, ২৭২৯, ২৭৩৫, ৫০৯৭, ৫২৭৯, ৫২৮৪, ৫৪৩০, ৬৭১৭, ৬৭৫১, ৬৭৫৪, ৬৭৫৮, ৬৭৬০, মুসলিম ১০৭৫, ১৫০৪, তিরমিযী ১১৫৪, ১১৫৫, ১২৫৬, ২১২৪, ২১২৫, নাসায়ী ২৬১৪, ২৪৪৭, ২৪৪৮, ২৪৪৯, ২৪৫৪, ৪৬৪২, ৪৪৪৬, ৪৬৫৫, ৪৪৫৬,আবূ দাউদ ২২৩৩, ২২৩৬, ২৯১৬, ৩৯২৯, আহমাদ ২৩৫৩৩, ২৩৬৩০, ২৩৬৬৭, ২৪০০১, ২৪৩১৮, ২৪৩৭৫, ২৪৩৯৮, ২৪৫১০, ২৪৬৪৪, ২৪৭৫৬, ২৪৮৩৮, ২৪৮৬৫, ২৪৮৯৮, ২৪৯২৪, ২৪৯৪০, ২৫০০৬, ২৫০৩৬, ২৫০৫৭, ২৫১৯৮, ২৫২২৭, ২৫২৫৮, ২৫৭৮৫, ২৫৮০৩, মুয়াত্তা মালেক ১১৯২, ১৫১৯, দারেমী ২২৮৯, ইরওয়া ১৩০৮, রাওদুন নাদীর ৭৮৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা (রাঃ)-এর মুকাতাবা অবস্থার কথা এসেছে। তিনি মালিকদের কাছে নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের চুক্তিতে ছিলেন। আয়িশা (রাঃ) সাহায্য করতে চাইলেন এবং এককালীন অর্থ দিয়ে তাঁকে মুক্ত করতে চাইলেন। কিন্তু মালিকরা ওয়ালার মালিকানা নিজেদের জন্য রাখতে চাইল। নবী (صلى الله عليه وسلم) আয়িশা (রাঃ)-কে তাঁকে ক্রয় করতে বললেন এবং পরে মানুষের সামনে জানিয়ে দিলেন, আল্লাহর কিতাবে নেই এমন শর্ত বাতিল। ওয়ালা তার, যে দাসকে আজাদ করে। এই হাদিসে মুকাতাবা, ওয়ালা, দাসমুক্তি এবং শর্তের সীমা সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, লেনদেনে শর্ত থাকলেও তা আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে হতে পারে না। তাই এই বর্ণনা পড়ার সময় হাদিসের সরাসরি শব্দগুলোকে আলাদা করে দেখা দরকার, যাতে মূল বক্তব্যের বাইরে অতিরিক্ত দাবি যুক্ত না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায় শর্ত যতবারই করা হোক, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
- ওয়ালা অধিকার সেই ব্যক্তির, যে দাসকে মুক্ত করে।
- লেনদেন ও মুক্তির কাজে আল্লাহর বিধানকে আগে রাখতে হয়।
- অন্যের অসহায় অবস্থায় সাহায্য করা ভালো কাজের অংশ।
