২০/৩০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৯৮ - জোরপূর্বক অপরাধে নির্যাতিতার দায় নেই
বল প্রয়োগে যাকে কিছু করতে বাধ্য করা হয়
জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতাকে শাস্তি না দেওয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৯৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৯৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، وَأَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَزَّانُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، أَنْبَأَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَدَرَأَ عَنْهَا الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا . وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا .
ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কোনরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষণকারীকে হদ্দের শাস্তি দেন। তিনি মহিলার জন্য মোহরের ব্যবস্থা করেছিলেন কিনা তা রাবী উল্লেখ করেননি।
[২৫৯৮] তিরমিযী ১৪৫৩, ১৪৫৪, ইরওয়া ৭/৩৪১। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুগে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে নবী صلى الله عليه وسلم তাকে কোনো শাস্তি দেননি; বরং ধর্ষণকারীকে হদ্দের শাস্তি দেন। রাবি উল্লেখ করেননি, তিনি মহিলার জন্য মহরের ব্যবস্থা করেছিলেন কি না। হাদিসের মূল শিক্ষা খুব পরিষ্কার—যে নারী জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার, তার ওপর দণ্ড দেওয়া হয়নি। অপরাধীর ওপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বর্ণনা ভুক্তভোগীকে দোষী না করা এবং জোর-জবরদস্তির অপরাধ আলাদা করে বোঝার শিক্ষা দেয়। এখানে অতিরিক্ত দাবি না করে হাদিসের ভাষার মধ্যেই থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার নারীকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।
- অপরাধীর ওপর হদ্দ প্রয়োগের কথা এসেছে।
- ভুক্তভোগী ও অপরাধীর অবস্থান আলাদা করে দেখা জরুরি।
- রাবি মহরের বিষয়টি উল্লেখ করেননি—এ সীমা মেনে কথা বলা উচিত।
