২০/২৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৯৭ - চুরির স্বীকারোক্তি ও তওবা
চোরকে তালকীন দেয়া
চুরির স্বীকারোক্তির পর তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৯৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৯৭
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، سَمِعْتُ أَبَا الْمُنْذِرِ، - مَوْلَى أَبِي ذَرٍّ - يَذْكُرُ أَنَّ أَبَا أُمَيَّةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أُتِيَ بِلِصٍّ فَاعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ الْمَتَاعُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ " . قَالَ بَلَى . ثُمَّ قَالَ " مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ " . قَالَ بَلَى . فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " قُلْ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ " . قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ . قَالَ " اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ " . مَرَّتَيْنِ .
আবূ উমায়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলাল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এক চোরকে উপস্থিত করা হলে সে তার অপরাধের স্বীকারোক্তি করলো। কিন্তু তার কাছে চুরিকৃত মাল পাওয়া গেলো না। রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মনে হয় তুমি চুরি করোনি। সে বললো, হাঁ (চুরি করেছি)। তিনি আবার বললেনঃ মনে হয় তুমি চুরি করোনি। সে বললো, হাঁ (চুরি করেছি)। অতঃপর তিনি হুকুম দিলে তার হাত কেটে দেয়া হয়। নবী (ﷺ) (লোকটিকে) বললেনঃ তুমি বলো, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি। সে বললোঃ “আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি”। রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল করো”। তিনি দু’বার একথা বলেন।
[২৫৯৭] নাসায়ী ৪৮৭৭, আবূ দাউদ ৪৩৮০, আহমাদ ২২০২, ইরওয়া ২৪২৬। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবুল মুনযীর সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাকবুল। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৬৫০, ৩৪/৩২০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক চোরকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আনা হয়। সে চুরির স্বীকারোক্তি করে, কিন্তু তার কাছে চুরিকৃত মাল পাওয়া যায়নি। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে বলেন, মনে হয় তুমি চুরি করোনি। সে বারবার স্বীকার করে। এরপর নির্দেশ দিলে তার হাত কাটা হয়। তারপর নবী صلى الله عليه وسلم তাকে শেখান, সে যেন বলে, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি। সে তা বলে, আর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তার তওবা কবুলের জন্য দুবার দোয়া করেন। এই হাদিসে বিচারিক সতর্কতা, স্বীকারোক্তি, হদ্দ এবং তওবার দরজা—সবই একসাথে দেখা যায়। অপরাধের শাস্তি হলেও আল্লাহর কাছে ফিরে আসার পথ বন্ধ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রেও নবী صلى الله عليه وسلم সতর্কতা দেখিয়েছেন।
- শাস্তির পরও তওবা ও ইস্তিগফারের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
- অপরাধীকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
- চুরি গুরুতর অপরাধ, তবে তওবার দরজা খোলা থাকে।
