১৭/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১০-[১] - হদ শাস্তিতে সুপারিশ নয়
দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ - প্রথম অনুচ্ছেদ
ইমাম মুসলিম (রহঃ) ‘দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ নিষেধ’ এর মাধ্যমে তিনি অনেক হাদীস নিয়ে এসেছেন। আর এটা বনী ইসরাঈলের ধ্বংসের কারণ। আর সকল ‘উলামারা ঐকমত্য হয়েছেন শাসকের নিকট পৌঁছার পর হাদ্দ বাস্তবায়ন না করার সুপারিশ হারাম আর শাসকের নিকট বিচার পৌঁছার পূর্বে সুপারিশ বৈধ যদি সুপারিশকৃত ব্যক্তি খুব খারাপ এবং মানুষকে কষ্টদানকারী না হয়। এরূপ যদি হয় তাহলে সুপারিশ বৈধ নয়। আর পাপীদের ক্ষেত্রে কোনো হাদ্দ নেই, আর ওয়াজিব হলো তাকে শাসানো এবং তাকে ভয় দেখানোর ব্যাপারে সুপারিশ বৈধ চাই প্রশাসকের নিকট পৌঁছুক বা না পৌঁছুক। আর সুপারিশ করা বৈধ যদি সুপারিশকৃত ব্যক্তি মানুষকে কষ্টদায়ক না হয়।
হদ শাস্তিতে সুপারিশ নয়, সবার জন্য ন্যায়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬১০-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬১০-[১]
عَن عائشةَ رَضِي الله عَنْهَا أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا: مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟» ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.وَفِي روايةٍ لمسلمٍ: قالتْ: كانتِ امرأةٌ مخزوميَّةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ وَتَجْحَدُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَطْعِ يَدِهَا فَأَتَى أَهْلُهَا أُسَامَةَ فَكَلَّمُوهُ فَكَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَطْعِ يَدِهَا فَأَتَى أَهْلُهَا أُسَامَةَ فَكَلَّمُوهُ فَكَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا ثمَّ ذكرَ الحديثَ بنحوِ مَا تقدَّمَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন মাখযূমী গোত্রের জনৈকা নারীর চুরির ব্যাপারে কুরায়শগণ অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে পড়েছিল। তারা (পরস্পরের মধ্যে) বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ এতদসম্পর্কে কে সুপারিশ করবে? তারাই পুনরায় বলল, উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) ব্যতীত কে আছে, এ ব্যাপারে সাহস করার? কেননা সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অত্যন্ত আস্থাভাজন। অতঃপর উসামাহ্ (রাঃ) তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এতদসম্পর্কে জানালেন। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ক্রোধান্বিত হয়ে) বললেন, তুমি আল্লাহ তা'আলার দণ্ডবিধিতে এই সুপারিশ করছ?অতঃপর তিনি (ﷺ) দাঁড়িয়ে বক্তব্যদানকালে বললেন, হে লোক সকল! নিঃসন্দেহে তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ আচরণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে যে, যদি তাদের মধ্যে কোনো সম্মানী লোক চুরি করত, তাহলে তাকে মাফ করে দিত। আর যদি কোনো অসহায় দরিদ্র শ্রেণীর লোক চুরি করত, তবে তার ওপর দণ্ড কার্যকর করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম।আর মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আছে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন : মাখযূমী গোত্রের জনৈকা নারী লোকেদের নিকট হতে কোনো জিনিসপত্র ধার নিলে, পরে তা দিতে অস্বীকার করত। এজন্য নবী (ﷺ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর উক্ত নারীর আত্মীয়-স্বজনেরা উসামাহ্ (রাঃ)-এর নিকট এসে (অনুরোধের জন্য) আলোচনা করল। তখন উসামাহ্ (রাঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আলোচনা করলেন। অতঃপর অবশিষ্ট ঘটনা পূর্বোল্লিখিত হাদীসের ন্যায় হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৭৫, মুসলিম ১৬৮৮, নাসায়ী ৪৮৯৯, ইবনু হিব্বান ২৫৪৭, দারিমী ২৩৪৮, আবূ দাঊদ ৪৩৭৩, তিরমিযী ১৪৩০, আহমাদ ২৫২৯৭, সহীহ আত্ তারগীব ২৩৫৩, ইরওয়া ২৩১৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১০-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই বিখ্যাত হাদিসে মাখযূমী গোত্রের এক নারীর চুরির ঘটনা এসেছে। কুরায়শরা চিন্তিত হয়ে ভাবল, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে কে সুপারিশ করবে। তারা উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে পাঠাল। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তুমি কি আল্লাহর দণ্ডবিধিতে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি খুতবায় বললেন, আগের জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছিল এ কারণে যে সম্মানী লোক চুরি করলে তারা ছেড়ে দিত, আর দুর্বল লোক চুরি করলে দণ্ড দিত। তিনি কসম করে বললেন, মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তিনি তার হাত কাটতেন। এই হাদিসে চুরির দণ্ড, ন্যায়বিচার, আইনের সমতা এবং সুপারিশের সীমা খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দণ্ডবিধিতে অন্যায় সুপারিশ করা ঠিক নয়।
- সম্মানী ও দুর্বল—সবার জন্য বিচার এক হওয়া দরকার।
- পক্ষপাতী বিচার আগের জাতিদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল বলে হাদিসে এসেছে।
- চুরি প্রমাণিত হলে মর্যাদা বা বংশ দণ্ডের বাধা নয়।
