গোলাম মুক্তিকরণ

১৪/০. অধ্যায়ঃ

গোলাম মুক্তিকরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ

মিরকাতুল মাফাতীহে বর্ণিত, মরোক্কার পরিভাষায়الْعِتْقِশব্দটি ব্যবহৃত দাসত্ব হতে বের হয়ে আসা। যেমন বলা হয়أُعْتِقَ الْعَبْدُ عِتْقًاদাস স্বাধীন হয়েছে।الْعِتْقِবাالعتاقএ শব্দদ্বয়ের আভিধানিক অর্থ হলো শক্তি বা প্রাবল্য। এ কারণে খানায়ে কা’বাকে বলা হয় ’’বায়তুল আতীক’’। কেননা তা নিজস্ব শক্তির বদৌলতে তার অনিষ্টকারী কিংবা ধ্বংসকারীকে প্রতিহত করে দেয়। তথা সমকালীন অনিষ্ট কোনো বাদশার ধ্বংস হতে (যেমন আবরাহা বাদশার অনিষ্ট হতে প্রতিহত করেছে)।আবার পুরনো বস্তুকেও ’আতীক বলা হয়, কেননা কোনো জিনিস পূর্বে সংঘটিত হলেও তাতে গুণগত হিসেবে এক ধরনের শক্তি অর্জিত হয়ে থাকে। এ জন্য আবূ বকর সিদ্দীক -এর উপাধি ছিল ’’আতীক’’। কেননা পূর্ব হতেই তিনি একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন, আবার কেউ বলেছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষায় জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি লাভ করেছিল বলে মর্যাদার উঁচুমানের হওয়াতে, আবার কারও মতে মা যখন তাকে প্রসব করেন তখন বলেন,عَتِيقُكَ مِنَ الْمَوْتِতোমার স্বাধীনতা মৃত্যু হতে অর্থাৎ তোমার মুক্তি মৃত্যুতে, কেননা তার কোনো সন্তানই বেঁচে থাকত না। তবে এখানে কোনো ক্রীতদাস তার মালিক হতে মুক্তি লাভ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।বস্তুত মানুষ জনমগতভাবে আযাদ বা স্বাধীন করেও করতলগত হওয়াটা তার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দাসত্ব অবস্থায় সে নিজের স্বভাবগত চাহিদা কিংবা দীন ঈমানের দাবীতে ধর্মীয় কার্যকলাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। এমতাবস্থায় সে একজন অসহায় ও অক্ষম, তার সেই দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্তি লাভ করাটাই শক্তি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৩৮২-[১]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةً أَعْتَقَ اللَّهُ بِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِنَ النَّارِ حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ»

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোনো মুসলিম গোলামকে মুক্ত করবে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিবেন। এমনকি ঐ ব্যক্তির গুপ্তাঙ্গও তার গুপ্তাঙ্গের বিনিময়ে মুক্তি দিবেন।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৭১৫, মুসলিম ১৫০৯, তিরমিযী ১৫৪১, সহীহ আত্ তারগীব ১৮৯০।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৩৮৩-[২]

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ» قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَغْلَاهَا ثَمَنًا وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا» . قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ؟ قَالَ: «تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ» . قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ؟ قَالَ: «تَدَعُ النَّاسَ مِنَ الشَّرِّ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقُ بهَا على نَفسك»

আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ কাজ সর্বোত্তম? তিনি (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা। তিনি (আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ গোলাম মুক্ত করা উত্তম? তিনি (ﷺ) বললেন, যার মূল্যায়ন সর্বত্র এবং যে তার মালিকের নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি যদি এমনটি করতে অক্ষম হই। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে কোনো কর্মরত শ্রমিককে সাহায্য করবে অথবা কোনো অদক্ষ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কাজ করে দেবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, (এতেও) যদি আমি সক্ষম না হই। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি মানুষের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন হতে বিরত থাকবে। কেননা এটাও সদাক্বাহ্, যা তুমি নিজের জন্য করতে পার।

[১] সহীহ : বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ৮৪, ইবনু মাজাহ ২৫২৩, দারিমী ২৭৩৮।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন