২৫/১. অধ্যায়ঃ
প্রশংসনীয় কাজ ও কথাকে আদাব (আদব) বলা হয়। ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চারিত্রিক মহৎ গুণাবলী লাভ করাকে আদব বলা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, সৎকর্মের সাথে থাকা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার নাম আদাব। কেউ কেউ বলেন, বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের সাথে সদয় আচরণ করাকে আদব বলে।এটাও বলা হয় যে,أدبশব্দটিمأدبةথেকে গৃহীত। আর তা হলো খাবারের প্রতি আহবান করা, এটা এজন্য নাম হয়েছে যে, সাধারণত খাদ্যের প্রতি ডাকাই হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ على صورته طوله ذِرَاعًا فَلَمَّا خَلَقَهُ قَالَ اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ النَّفَرِ وَهُمْ نَفَرٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ جُلُوسٌ فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ فَذَهَبَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَقَالُوا: السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ قَالَ: «فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ». قَالَ: «فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بعدَه حَتَّى الْآن»
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা আদাম (আঃ)-কে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে সৃষ্টি করে বলেন, যাও এবং অবস্থানরত মালায়িকাহ্'র (ফেরেশতাদের) ঐ দলটিকে সালাম করো। আর তাঁরা তোমার সালামের উত্তরে কি বলে তা শ্রবণ করো। তাঁরা যে উত্তর দেবে তা তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের উত্তর।অতঃপর আদাম (আঃ) গিয়ে তাঁদের উদ্দেশে বললেন : ’’আসসালা-মু ’আলায়কুম’’। অতঃপর মালায়িকাহ্ উত্তর দিলেন, ’’আসসালা-মু ’আলায়কা ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’। তিনি (ﷺ) বললেন : তাঁরা (ফেরেশতাগণ) ’’ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ অংশটি বৃদ্ধি করেছেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : যে ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে সে আদাম (আঃ)-এর আকৃতিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে উচ্চতায় হবে ষাট হাত। তখন হতে আজ পর্যন্ত সৃষ্টিকুলের উচ্চতা ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে আসছে।
[১] সহীহ : বুখারাী ৩৩২৬, ৬২২৭; মুসলিম (২৮৪১)-২৮, আহমাদ ৮১৭১, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৫৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৬২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৩৫, শু‘আবুল ঈমান ৮৮৬৯, আল জামি‘উস্ সগীর ৫৫৪৫, সহীহুল জামি‘ ৩২৩৩।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لم تعرف»
জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন আমলটি উত্তম? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : অপরকে খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে।
[১] সহীহ : বুখারী ১২, ২৮; মুসলিম (৩৯)-৬৩, আহমাদ ৬৫৮১, নাসায়ী ৫০০০, ইবনু মাজাহ ৩২৫৩, আবূ দাঊদ ৫১৯৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৯৪৪, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৭৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫০৫, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১১৭৩১, শু‘আবুল ঈমান ৩৩৫৯।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِلْمُؤْمِنِ عَلَى الْمُؤْمِنِ سِتُّ خِصَالٍ: يَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَنْصَحُ لَهُ إِذَا غَابَ أَوْ شَهِدَ «لَمْ أَجِدْهُ» فِي الصَّحِيحَيْنِ «وَلَا فِي كِتَابِ الْحُمَيْدِيِّ وَلَكِنْ ذَكَرَهُ صَاحِبُ» الْجَامِع بِرِوَايَة النَّسَائِيّ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : একজন মুমিনের ওপর অপর মুমিনের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথা-১. যখন কোন মুমিনের রোগ-ব্যাধি হয়, তখন তার সেবা-শুশ্রূষা করা,২. কেউ মৃত্যুবরণ করলে, তার জানাযাহ্ ও দাফন-কাফনে উপস্থিত হওয়া,৩. কেউ দাওয়াত করলে তা গ্রহণ করা অথবা কারো ডাকে সাড়া দেয়া,৪. সাক্ষাতে সালাম প্রদান করা,৫. হাঁচি দিলে জবাব দেয়া এবং৬. উপস্থিত-অনুপস্থিত সকল অবস্থায় মুমিনের কল্যাণ কামনা করা।
[১] সহীহ : নাসায়ী ১৯৩৮, তিরমিযী ২৭৩৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৩২, আল জামি‘উস্ সগীর ৯৩১৯, সহীহুল জামি‘ ৫১৮৮, আহমাদ ৮২৭১, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৫৩, ‘নাসায়ী’র কুবরা ২০৬৫, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৭১৯, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৯৩৪১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১৫৭। মাসাবীহ গ্রন্থকার বলেন : আমি এ হাদীসটি সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে পাইনি এবং হুমায়দীর কিতাবেও পাইনি। তবে জামি'উল উসূলের গ্রন্থকার নাসায়ী'র বর্ণনা সূত্রে এটা বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَو لَا أدلكم على شَيْء إِذا فعلمتموه تحاببتم؟ أفشوا السَّلَام بَيْنكُم» رَوَاهُ مُسلم
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করবে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলে দেব, যার উপর আমল করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। (তা হলো) তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রচলন করবে।
[১] সহীহ : মুসলিম (৫৪)-৯৩, আহমাদ ৯০৮৫, আল জামি‘উস্ সগীর ১৩০৩৭, সহীহুল জামি‘ ৭০৮১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৬৯৪, তিরমিযী ২৬৮৮, ইবনু মাজাহ ৩৬৯২, আবূ দাঊদ ৫১৯৩, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৪০, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৭৪৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৩৬, শু‘আবুল ঈমান ৬৬১৩, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২১৫৯৫, আল মুসতাদরাক ৭৩১০।
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আরোহী ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলা ব্যক্তিকে সালাম দেবে এবং পদব্রজে গমনকারী উপবিষ্টমান ব্যক্তিকে সালাম দেবে এবং অল্পসংখ্যক লোক বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দেবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৩২, ৬২৩৩; মুসলিম (২১৬০)-১, আহমাদ ১০৬২৪, তিরমিযী ২৭০৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১১৪৫, আবূ দাঊদ ৫১৯৯, সহীহুল জামি‘ ৮০৮৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭০৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৭৬৯, মালিক ৩৫২৪, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৪৩, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৮৬৯, শু‘আবুল ঈ‘মান ৮৮৬২, দারিমী ২৬৩৪, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ১৯১৮৯।
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُسَلِّمُ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ وَالْمَارُّ عَلَى الْقَاعِدِ وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ছোট বা কম বয়সী বয়োজ্যেষ্ঠকে, পদব্রজে অতিক্রমকারী বসা ব্যক্তিকে ও কম সংখ্যক লোক বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দেবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৩১, ৬২৩৪; তিরামিযী ২৭০৪, আবূ দাঊদ ৫১৯৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১১৪৯, সহীহ আল জামি‘উস্ সগীর ৮০৯০, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৬৮, শু‘আবুল ইমান ৮৮৬৪, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ১৯১৮৮, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৫১৯৯, দারিমী ২৬৩৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৯৭, আবূ ইয়া‘লা ৬২৩৪, আহমাদ ৮১৬২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৪৫।
وَعَن أَنَسٍ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مر على غلْمَان فَسلم عَلَيْهِم
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল বালকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং তাদের সালাম দিলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম (২১৬৮)-১৪, আবূ দাঊদ ৫২০২, তিরমিযী ২৬৯৬, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৮০০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৭৮, আবূ ইয়া‘লা ৩৩৬৬, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১০১৬৩, দারিমী ২৬৩৬।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «لَا تبدؤوا الْيَهُودَ وَلَا النَّصَارَى بِالسَّلَامِ وَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ فِي طريقٍ فَاضْطَرُّوهُ إِلَى أضيَقِه»
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানকে প্রথমে সালাম দেবে না। তোমাদের কেউ যদি পথে কোন ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টানের সাক্ষাৎ পাও, তবে রাস্তাকে এতটা সংকীর্ণ করে রাখবে, যাতে সে রাস্তার একপাশ দিয়ে অতিক্রম করতে বাধ্য হয়।
[১] সহীহ : মুসলিম (২১৬৭)-১৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৪১১, সহীহুল জামি‘ ১৩১৬০, আল জামি‘উস্ সগীর ১৩১৬০, ইরওয়া ১২৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭২৫, শু‘আবুল ঈমান ৮৯০৩, তিরমিযী ১৬০২।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمُ الْيَهُودُ فَإِنَّمَا يَقُولُ أَحَدُهُمْ: السَّامُ عَلَيْك. فَقل: وَعَلَيْك
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যখন ইয়াহুদীরা তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তারা “আসামু ‘আলায়কা” (অর্থাৎ- শীঘ্রই তোমার মৃত্যু ঘটুক) বলে, তখন তোমরাও জবাবে বলবে “ওয়া ‘আলায়কা” (অর্থাৎ- তোমারও মৃত্যু হোক)।
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৫৭, মুসলিম (২১৬৬)-১২, আহমাদ ৪৬৫৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২২৪২, আল জামি‘উস্ সগীর ৬০৮, সহীহুল জামি‘ ৬০৬, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৮৪২।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الكتابِ فَقولُوا: وَعَلَيْكُم
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যখন তোমাদেরকে আহলে কিতাব (অর্থাৎ- ইয়াহুদী ও নাসারাগণ) সালাম দেয়, তখন তোমরাও বলবে “ওয়া আলায়কুম” (অর্থাৎ- তোমাদের ওপরও)।
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৫৮, ৬৯২৬; মুসলিম (২১৬৩)-৬, শু‘আবুল ঈমান ৯১০২, আবূ ইয়া‘লা ২৯১৬, আহমাদ ১১৯৪৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২২৪২, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭২৬, আবূ দাঊদ ৫২০৬, তিরমিযী ১৬৬৯, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৭।