২৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬২৮-[১] - আদম আ. ও সালামের শিক্ষা
সালাম - প্রথম অনুচ্ছেদ
প্রশংসনীয় কাজ ও কথাকে আদাব (আদব) বলা হয়। ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চারিত্রিক মহৎ গুণাবলী লাভ করাকে আদব বলা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, সৎকর্মের সাথে থাকা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার নাম আদাব। কেউ কেউ বলেন, বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের সাথে সদয় আচরণ করাকে আদব বলে।এটাও বলা হয় যে,أدبশব্দটিمأدبةথেকে গৃহীত। আর তা হলো খাবারের প্রতি আহবান করা, এটা এজন্য নাম হয়েছে যে, সাধারণত খাদ্যের প্রতি ডাকাই হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
আদম আ. থেকে সালামের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬২৮-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬২৮-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ على صورته طوله ذِرَاعًا فَلَمَّا خَلَقَهُ قَالَ اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ النَّفَرِ وَهُمْ نَفَرٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ جُلُوسٌ فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ فَذَهَبَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَقَالُوا: السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ قَالَ: «فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ». قَالَ: «فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بعدَه حَتَّى الْآن»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা আদাম (আঃ)-কে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে সৃষ্টি করে বলেন, যাও এবং অবস্থানরত মালায়িকাহ্'র (ফেরেশতাদের) ঐ দলটিকে সালাম করো। আর তাঁরা তোমার সালামের উত্তরে কি বলে তা শ্রবণ করো। তাঁরা যে উত্তর দেবে তা তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের উত্তর।অতঃপর আদাম (আঃ) গিয়ে তাঁদের উদ্দেশে বললেন : ’’আসসালা-মু ’আলায়কুম’’। অতঃপর মালায়িকাহ্ উত্তর দিলেন, ’’আসসালা-মু ’আলায়কা ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’। তিনি (ﷺ) বললেন : তাঁরা (ফেরেশতাগণ) ’’ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ অংশটি বৃদ্ধি করেছেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : যে ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে সে আদাম (আঃ)-এর আকৃতিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে উচ্চতায় হবে ষাট হাত। তখন হতে আজ পর্যন্ত সৃষ্টিকুলের উচ্চতা ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে আসছে।
[১] সহীহ : বুখারাী ৩৩২৬, ৬২২৭; মুসলিম (২৮৪১)-২৮, আহমাদ ৮১৭১, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৫৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৬২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৩৫, শু‘আবুল ঈমান ৮৮৬৯, আল জামি‘উস্ সগীর ৫৫৪৫, সহীহুল জামি‘ ৩২৩৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬২৮-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, সালামের শিক্ষা এবং জান্নাতে মানুষের আকৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের একটি দলের কাছে যেতে বলেন এবং তাদের সালাম করতে বলেন। আদম (আ.) বলেন, আসসালামু আলাইকুম। ফেরেশতারা উত্তরে বলেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। হাদিসে বলা হয়েছে, ফেরেশতারা ওয়া রহমাতুল্লাহ অংশটি বাড়িয়ে বলেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এটাই আদম (আ.) ও তাঁর সন্তানদের সালামের উত্তর। আরও বলা হয়েছে, জান্নাতে যে প্রবেশ করবে, সে আদম (আ.)-এর আকৃতিতে প্রবেশ করবে এবং তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। এই হাদিস সালামের মর্যাদা ও মানুষের আদি শিক্ষা তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাম মানুষের আদি শিক্ষা হিসেবে হাদিসে এসেছে।
- সালামের জবাবে রহমতের দোয়া যোগ করা উত্তম উত্তর হিসেবে এসেছে।
- আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও জান্নাতের আকৃতি সম্পর্কে হাদিসে খবর দেওয়া হয়েছে।
- মুসলিম জীবনে সালাম শুধু অভ্যাস নয়, দোয়ার ভাষা।
