ফিতনা
২৭/০. অধ্যায়ঃ
ফিতনা সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৩৭৯-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫৩৭৯-[১]
عَن حُذَيْفَة قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مقَامه إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلَّا حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلَاءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّيْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عرفه. مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (6604) ومسلم (23 / 2891)، (7263) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং তখন থেকে ক্বিয়ামাত অবধি যা কিছু ঘটবে তার সকল কিছুই বর্ণনা করেন। তাঁর সেই ভাষণটি যারা স্মরণে রাখতে পারে তারা স্মরণে রেখেছে, আর যারা ভুলে যাওয়ার তার ভুলে গিয়েছে। নিশ্চয় আমার বন্ধুগণ (সাহাবী কিরামগণ)ও সে বিষয় অবগত আছেন। অবশ্য যখন কোন ঘটনা সামনে আসে, যার কথা আমি ভুলে গিয়েছি, তখন তাঁর (রাসূল (ﷺ)-এর) সেই দিনের ভাষণটি আমার স্মরণে পড়ে। যেমন - উপস্থিত হলে তাকে দেখামাত্রই চেনা যায়- এই তো সেই অমুক লোক।
সহীহ: বুখারী ৬৬০৪, মুসলিম ২৩-(২৮৯১), আবূ দাউদ ৪২৪০, তিরমিযী ২১৯১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ২৭৫১, মুসনাদে বাযযার ২৮০৬, মুসনাদে আহমাদ ২৩৩২২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৬৩৬, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৫৯৪৪।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৩৮০-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫৩৮০-[২]
وَعَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نَكَتَتْ فِيهِ نُكْتَةً سَوْدَاءَ وَأَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَتْ فيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى يَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ: أَبْيَضُ بِمثل الصَّفَا فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مِرْبَادًّا كَالْكُوزِ مُجْخِيًّا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أشْرب من هَوَاهُ رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (231 / 144)، (369) ۔ (صَحِيح)
হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের হৃদয়ে ফিতনাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করে, যেমন- আঁশ একটির পর আরেকটি বিছানো হয়ে থাকে এবং যেই হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা প্রবেশ করে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে জায়গা দেয় না তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে।ফলে মানুষের অন্তরসমূহ পৃথক পৃথক দু'ভাগে আলাদা হয়ে যায়। একপ্রকার অন্তর হয় মর্মর পাথরের মতো শ্বেত, যাকে আসমান ও জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (ক্বিয়ামাত পর্যন্ত) কোন ফিতনাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।অপরদিকে দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হয় কয়লার মতো কালো। যেমন- উপুড় হওয়া পাত্রের মতো, যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো জানার এবং মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখে না, ফলে শুধুমাত্র তাই গ্রহণ করে যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা হয়।
সহীহ : মুসলিম ২৩১-(১৪৪), সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৩১৯, মুসনাদে আহমাদ ২৩৩২৮, মুসনাদে বাযযার ২৮৪৪, সহীহুল জামি ২৯৬০, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৪/৩৭০।
