২৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৩৭-[১০] - আহলে কিতাবের সালামের জবাব
সালাম - প্রথম অনুচ্ছেদ
প্রশংসনীয় কাজ ও কথাকে আদাব (আদব) বলা হয়। ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চারিত্রিক মহৎ গুণাবলী লাভ করাকে আদব বলা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, সৎকর্মের সাথে থাকা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার নাম আদাব। কেউ কেউ বলেন, বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের সাথে সদয় আচরণ করাকে আদব বলে।এটাও বলা হয় যে,أدبশব্দটিمأدبةথেকে গৃহীত। আর তা হলো খাবারের প্রতি আহবান করা, এটা এজন্য নাম হয়েছে যে, সাধারণত খাদ্যের প্রতি ডাকাই হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
আহলে কিতাব সালাম দিলে কী জবাব দেবেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬৩৭-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬৩৭-[১০]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الكتابِ فَقولُوا: وَعَلَيْكُم
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যখন তোমাদেরকে আহলে কিতাব (অর্থাৎ- ইয়াহুদী ও নাসারাগণ) সালাম দেয়, তখন তোমরাও বলবে “ওয়া আলায়কুম” (অর্থাৎ- তোমাদের ওপরও)।
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৫৮, ৬৯২৬; মুসলিম (২১৬৩)-৬, শু‘আবুল ঈমান ৯১০২, আবূ ইয়া‘লা ২৯১৬, আহমাদ ১১৯৪৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২২৪২, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭২৬, আবূ দাঊদ ৫২০৬, তিরমিযী ১৬৬৯, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৩৭-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যখন আহলে কিতাব তোমাদের সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে, ওয়া আলাইকুম—অর্থাৎ তোমাদের ওপরও। এটি খুব ছোট একটি হাদিস, কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। সালামের জবাব কী হবে, তা নিজের মনমতো না করে নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো ভাষায় রাখা উচিত। আগের হাদিসে এসেছে, কেউ কেউ সালামের শব্দ বদলে কটূ অর্থ বোঝাত। তাই জবাবে সংক্ষিপ্ত ভাষা শেখানো হয়েছে। এই নির্দেশ মুসলিমকে ভাষায় সতর্ক, শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত থাকতে শেখায়। যেখানে কথার ভুল অর্থ হতে পারে, সেখানে সংক্ষিপ্ত ও নিরাপদ জবাবই ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আহলে কিতাব সালাম দিলে ওয়া আলাইকুম বলা হবে।
- সালামের জবাব নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো ভাষায় রাখা উচিত।
- ভুল বা দ্ব্যর্থক কথার জবাবে সংক্ষিপ্ত উত্তর নিরাপদ।
- মুমিনের ভাষা শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া দরকার।
