১৭/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১১-[২] - অন্যায় সুপারিশ ও মিথ্যা অপবাদ
দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
অন্যায় সুপারিশ ও মিথ্যা অপবাদের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬১১-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬১১-[২]
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ فَقَدَ ضَادَّ اللَّهَ وَمَنْ خَاصَمَ فِي بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِي سُخْطِ اله تَعَالَى حَتَّى يَنْزِعَ وَمَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَفِي روايةٍ للبيهقيِّ فِي شعبِ الْإِيمَان «مَنْ أَعانَ على خُصُومَةً لَا يَدْرِي أَحَقٌّ أَمْ بَاطِلٌ فَهُوَ فِي سَخطِ اللَّهِ حَتَّى ينْزع»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহ তা'আলার দণ্ডবিধিতে প্রতিবন্ধক হয়, সে যেন আল্লাহ তা'আলার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলো। আর যে ব্যক্তি স্বজ্ঞানে কোনো অন্যায় বা অপকর্মের পক্ষে বিবাদে লিপ্ত হলো, সে তা বর্জন না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির মধ্যে পড়ে রইল। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের ব্যাপারে এমন মিথ্যারোপ রটাল, অথচ তার মধ্যে দোষ-ত্রুটি নেই। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত সে যা রটিয়েছিল তার থেকে (তাওবাহ্ করে) মুক্ত ও পবিত্র না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামীদের দূষিত রক্ত ও পুঁজের মধ্যে অবস্থান করাবেন। আল্লাহর কৃম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম) আর মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আছে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন : মাখযূমী গোত্রের জনৈকা নারী লোকেদের নিকট হতে কোনো জিনিসপত্র ধার নিলে, পরে তা দিতে অস্বীকার করত। এজন্য নবী (ﷺ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন।অতঃপর উক্ত নারীর আত্মীয়-স্বজনেরা উসামাহ্ (রাঃ)-এর নিকট এসে (অনুরোধের জন্য) আলোচনা করল। তখন উসামাহ্ (রাঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আলোচনা করলেন। অতঃপর অবশিষ্ট ঘটনা পূর্বোল্লিখিত হাদীসের ন্যায় হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৫৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৩৭৭, আহমাদ ৫৩৮৫, ইরওয়া ২৩১৮, সহীহাহ্ ৮৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৬১৯৬, সহীহ আত্ তারগীব ২২৪৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১১-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিনটি বড় সতর্কতা দিয়েছেন। প্রথমত, যার সুপারিশ আল্লাহর দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়ার পথে বাধা হয়, সে যেন আল্লাহর বিরোধিতায় দাঁড়াল। দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে কোনো অন্যায় বা বাতিল বিষয়ের পক্ষে বিবাদে নামে, সে তা না ছাড়ার আগ পর্যন্ত আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে। তৃতীয়ত, যে কোনো মুমিনের ব্যাপারে এমন কথা বলে বা রটায় যা তার মধ্যে নেই, তার জন্য কঠিন পরিণতির কথা এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সুপারিশ, মামলা-মোকদ্দমা ও মানুষের সম্মান—সবই আমানত। হদ শাস্তিতে বাধা দেওয়া, জেনে অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং মিথ্যা অপবাদ—এসব কাজ ঈমানদারের জন্য ভয়ংকর ক্ষতির কারণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দণ্ডবিধি আটকাতে অন্যায় সুপারিশ করা ভয়ংকর কাজ।
- জেনে-বুঝে বাতিলের পক্ষে বিবাদ করা থেকে বিরত থাকা দরকার।
- মুমিনের নামে মিথ্যা কথা ছড়ানো বড় গুনাহ।
- সত্য জানা না থাকলে কারও পক্ষে অন্যায়ভাবে দাঁড়ানো উচিত নয়।
